মমতার ব্রতই পালন করছেন অনুব্রতঃ মীরাতুন নাহার

0
18

বোলপুরে সেই ঠিক করে দেবে উন্নয়নের গতি,তার হুকুমেই নির্ধারিত হবে,কে কোথায় কোন সভা করবে বা করবে না।কে কার হয়ে ভোেটে দাঁড়াবে,কে কাকে ভোট দেবে তাও নির্ধারিত হবে তার নির্দেেশেই।এর কোন অন্যথা হোলে তিনি হকুম জারি করতে পারেন পুলিশের উপর বোম মারার,যে কাউকে বাড়ি থেকে তুলে এনে খুন করে দেওয়ার,যে কোন বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার।বিরোধীদের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ার হুমকি দিতেও তার কোন কুন্ঠা নেই,তিনি বিরভূমের তৃণমূলের সর্বাধিনায়ক অনুব্রত মন্ডল।গোটা বীরভূমে তিনিই প্রশাসন,তিনিই আইন,তিনিই আদালত।এ হেন প্রতাপশালী নেতা অনুব্রত বুধবার বিকেলে খবর পেলেন,তার পাঠানো লোকেরা শিবপুরের অনিচ্ছুক  জমিদাতাদের সভা বাতিল করতে গিয়ে সাধারণ কৃষকদের রোষের মুখে পড়েছে,অনুব্রতের লোকেরা সভামঞ্চ ভেঙ্গে দিতেই এলাকার সাধারণ কৃষক সম্প্রদায়ের মানুষজন প্রতিরোধে এগিয়ে আসেন,অস্ত্রধারী অনুব্রতের অনুগতদের লাঠি আর জুতো দিয়ে পেটাতে থাকেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা।কোনক্রমে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান অনুব্রতর ভাড়া করা লোকজন।এই খবর পেতেই তেতে ওঠেন অনুব্রত,পুলিশেকে সামনে দাঁড় করিয়ে সময় বেঁধে দিয়ে নির্দেশ দেন ঐ সময়ের মধ্যে যারা তার লোকজনকে মেরে তাড়িয়ে দিয়ে তার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে সভা করেছে তাদের গ্রেফতার  করতে না পারলে তিনি নিজেই এলাকায় ঢুকে প্রতিবাদী কৃষকদের ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে ছাড়খাড় করে দেবেন।বিরোধী কোন নেতারা এখানে আসলে তাদেরও ঠ্যাং ভেঙ্গে দেওয়ার হুমকি দেন তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা। বুধবার সভাস্থলের গোটা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মিরাতুন নাহার,তিনি ঐ সভার অন্যতম প্রধান বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন। অনুব্রতর হুমকিরে প্রেক্ষিতে তাঁর মত জানতে চাওয়া হলে মীরাতুন নাহার জানিয়েছেন মমতার ব্রতই পালন করছেন অনুব্রত( ২০১৩ সালের বইমেলায় গাড়ি আসতে দেরি হওয়ায় পুলিসকে চাবকানো উচিত বলেছিলেন মমতা)। মীরাতুন জানিয়েছেন গ্রামের গরীব কৃষকদের অসাধারণ লড়াকু মনসিকতা তাঁকে অবাক করে দিয়েছে।যে ভাবে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের প্রতিহত করে মানুষ শেষ পর্যন্ত সভা করল তা তাদের মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ।মিরাতুন নাহার সাতদিন ডট ইনের সঙ্গে কথা বলার সময় জানান যে সময় মঞ্চ ভাঙা হচ্ছিল তখন তিনি সেখানে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিরদের কাছে আবেদন করেছিলেন যে গণতান্ত্রীক একটা সমাজে এভাবে কারোর মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া দেখেও তারা কেন চুপ করে আছেন,পুলিশ আধিকারিকরা সে সময় তাদের অসহায়তার কথা বলেন বলে জানাচ্ছেন এই প্রবীণ শিক্ষাবিদ।এর পরেই কৃষকরাই এগিয়ে এসে প্রতিরোধ তৈরি করে,তার পরে সভা অনুষ্ঠিত হয়।কৃষকদের দাবি মূলত পাঁচটি,এক যে জমি তারা দিয়েছেন তাতে শিল্প হোক,জমিদাতাদের উপযুক্ত ক্ষতি পুরণ দেওয়া হোক আজকের বাজারদর অনুসাকরে,জমিদাতাদের পরিবার পিছু একজনের চাকরীর ব্যবস্থা রাখা হোক,জমির মূল্য নির্ধারণের জন্য পর্যবেক্ষক কমিটি হোক,শিল্প না হলে জমি ফেরতের ব্যবস্থা হোক। সরকার এর কোনটাই মানছে না,তারা গায়ের জোরে আবাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় করার কথা ঘোষণা করে দিয়েছে।