রাজ্যে গণতন্ত্র ফেরাতে চান মুকুল রায়!

তাঁর দলবদলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়ে গেছিল দিন কয়েক আগেই,তবু কলকাতায় এসে বিজেপি রাজ্য দপ্তরে বসে  মুকুল রায় কী বলেন তা নিয়ে আগ্রহ ছিল অানেকেরই।সেই আগ্রহকে প্রচার মাধ্যমের সাহায্যে সুকৌশলে উসকে দিয়েছে বিজেপির শীর্য নেতৃত্ব,আর তাই সোমবার এ রাজ্যের যাবতীয় মিডিয়া জুড়ে মুকুল রায়ই হয়ে উঠলেন প্রথম ও প্রধান খবর।একজন তৃণমূলের নেতাকেও এখনও ভাঙাতে  পারেন নি মুকুল রায়,তা সত্ত্বেও যে সমাদর সহযোগে রাজ্য বিজেপির অফিসে মুকুল রায়ের আগমন হল তাতে,বুঝতে অসুবিধা হয় না মুকুল রায়ের প্রতি বিজেপি শীর্ষ নেতাদের প্রত্যাশা কতখানি।সেই প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখেই বোধহয় রাজ্যে বিজেপি নেতা হিসেবে প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই মুকুল রায় দ্বিধাহীন ভাবে জানিয়ে দিলেন বিজেপিই এ রাজ্যে আগামী দিনে একমাত্র বিকল্প,বিজেপি এ রাজ্যে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে বলে দাবি করে মুকুল রায় বলেন এ রাজ্যের শাসক দল এখন রাজ্য জুড়ে ফ্যাসিস্ট রাজ কায়েম করেছে।তাঁর মতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল তা পালন না করে তারা মানুষের সঙ্গে চুড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা করেছে,তাই ওই দলে আর থাকা যাচ্ছিল না।তবে তাঁর দল বদলের কারণ ও আগামী কর্মসূচি বিষয়ে তিনি রাজনৈতিক সভাতেই বিশদ ভাবে বলতে চান বলে জানান মুকুল রায়।এ রাজ্যে যে ভাবে তৃণমূল ভোটে যেতে তাকে কটাক্ষ করে ভোটের নামে প্রহসন বলে উল্লেক করে মুকুলবাবু বলেন,স্বৈরাচারি সরকার স্বৈরাচার করেই ক্ষমতা ধরে রেখেছে।তাঁর এক সময়কার নেত্রীকে বিঁধতেও ছাড়েন নি মুকুল রায়,তাঁর মতে তৃণমূলে কেউ মন খুলে কথা বলতে পারেন না,সেখানে একজনই বলেন,অন্যেরা সেই বাক্য পালন করেন মাত্র,এক নেতার শাসন গণতন্ত্রণের বিপদ বলে উল্লেখ করে মুকুল রায় এ রাজ্যকে সেখান থেকে উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেন।তাঁর সঙ্গে আর কেউ কেন দল ছাড়লেন না,এ প্রশ্নের উত্তরে মুকুল রায় জানানঅপেক্ষা করতে হবে সময় সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেবে।এদিন রাজ্য বিজেপির কোন নেতার সঙ্গে তাঁর কোন বিরোধ নেই বলে জানিয়ে মুকুল রায় বলেন,সর্বভারতীয়ক্ষেত্রে বিজেপিতে তাঁর নেতা অমিত শাহ আর রাজ্যে তাঁর নেতা দিলীপ ঘোষ।তিনি এদের নেতৃত্বেই কাজ করবেন।এখন এত কথা বললেও তৃণমূলে থাকাকালীন কেন বলেন নি,তৃণমূলের রিগিং কৌশলে তাঁর ভূমিকা নিয়ে অবশ্য কোন কথা বললেন না মুকুল রায়।মুকুল রায় নিজে দিলীপ ঘোষকে তাঁর নেতা বলে উল্লেখ করলেও,দিল্লির নেতাদের নির্দেশে এদিন মুকুল রায়কে যেরকম সংবর্ধনা দিয়ে ঘরে তোলা হল,এয়ারপোর্ট থেকে পার্টি অফিসে মুকুল রায়কে নিয়ে যেতে যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল তা থেকে পরিষ্কার মুকুল রায়কে দিল্লি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে,সেই জন্যই বোধহয় মাঝে মধ্যে হাসবার চেষ্টা করলেও দিলীপ ঘোষকে মুকুল রায়ের পাশে গম্ভীর চিন্তান্বিত মুখেই বসে থাকতে দেখা গেছে।