নোট বাতিলের ফ্লপ শো কেন? উত্তর নেই কারো কাছেই!

নোট বাতিলের ১ বছরের পূর্তি হচ্ছে ৮ নভেম্বর। নোট বাতিল ইস্যুতে সংবাদপত্রে পাতা জুড়ে সাফল্যের খতিয়ান ছেপেছে কেন্দ্র। বাস্তবের সঙ্গে তার যে মিল নেই তা কমবেশি সকলেই এখন বোঝেন। বাতিল ১৫লক্ষ ৪৪ কোটি টাকার মধ্যে ১৫ লক্ষ ২৮ কোটি টাকাই ব্যাঙ্কে ফিরে এসেছে। শতাংশের হিসাবে যা ৯৯ শতাংশ। নোট বাতিলের পর সরকার ঘেঁষা অর্থনীতিবিদদের অনুমান ছিল ৩ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি পুরোন নোট আর ব্যাঙ্কে জমা পড়বে না। কিন্তু সেই অনুমান সত্যি হয়নি। নোট বাতিলের কারণ হিসাবে বলা হয়েছিল কালো টাকার মালিকরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন অথচ একজন কালো টাকার মালিককে নোটবন্দির পর আত্মহত্যা করতে শোনা যায়নি। বরং নোট বদলের লাইনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত শ দেড়েক মানুষের। নোট বাতিলের পর ব্যাঙ্ক থেকে গ্রাহক পিছু কোথায়  ২০০০ টাকা কোথাও ৫০০০ টাকা দেওয়া হচ্ছিল। অথচ কয়েকদিনের মধ্যেই চেন্নাইয়ে এক খনি ব্যবসায়ীর বাড়ি ও বিভিন্ন ডেরায় আয়কর হানায় বাজেয়াপ্ত হয়েছিল ৩৪ হাজার কোটি টাকা। যাছিল নতুন  ২০০০ টাকার নোটের বান্ডিল।

এবার আসা যাক নোট বাতিলের ফলে সরকারের আর্থিক লাভালাভের বিষটিতে। ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে কেন্দ্রকে তাদের লাভের থেকে ৩০ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এর আগের বছরে এই অঙ্কটা ছিল ৬৫ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। প্রায় অর্ধেক। কিন্তু কেন? এর কোন জবাব RBI এর তরফে দেওয়া হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে বিমুদ্রাকরণ এর জন্য দায়ী। ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে নতুন নোট ছাপতে  RBI এর খরচ হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাঙ্কগুলোতে হঠাত্ এসে পড়া টাকা। সেই টাকা রোজ RBIতে জমা করেছে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি। এর ফলে সুদ গুনতে হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। সেই সঙ্গে ডলার ও টাকার দামের ওঠা পড়া। সব মিলিয়ে বিমুদ্রাকরণের খরচ ঠিক কত তা জানা না গেলেও কেন্দ্রকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তরফে লভ্যাংশ অর্ধেক করে দেওয়ায় অনুমান করা হচ্ছে প্রায় নোট বাতিলের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা মত ক্ষতি হয়েছে কেন্দ্রের। তবে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের দাবি নোট বাতিলের জেরে সরকারের ক্ষতির অঙ্কটা ৫০ হাজার কোটি টাকা।অর্থাত্ একটি ফ্লপ শোকে ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু মজার কথা হলো বিরোধীরাও বলতে পারছে না ঠিক কেন নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি।শুধু কেলেঙ্কারি কেলেঙ্কারি বললেই শেষ হয় না। কেলেঙ্কারিটা ঠিক কী বা কেন তাও বলতে হয়। সে বিষয় স্পষ্ট কোনও উত্তর কারো কাছে নেই।