১০ ডিসেম্বরের নয় রাজ্যে মানাবাধিকার দিবসের উদযাপন ৮ এঃ হীরক রাজার দেশ বলে কটাক্ষ মানবাধিকার কর্মীদের

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী মানবাধিকার দিবস পালনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে ১০ ডিসেম্বর দিনটিকে।ঐদিনটিতেই দেশে দেশে মানবাধিকার নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা।এ রাজ্যে বাম আমলেই সরকার মানবাধিকার কমিশন গঠন করে।যদিও প্রথম থেকেই এই কমিশনের কাজ নিয়ে বিতর্ক হয়ে আসছে।সরকারের মানবতা হরণ নিয়ে কমিশন কোন ব্যবস্থা নেয় না বলে অভিযোগ বাম আমল থেকেই।রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর কমিশনের চেয়ারম্যানের পদে বিচারপতি অশোক কুমার গাঙ্গুলি থাকাকালীন বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে মানবতা হরণের অভিযোগ মান্যতা পেতে থাকে।একাধিকবার সরাকারকে মানবাতা হরণের জন্য নাগরিককে ক্ষতি পুরণ দিতে নির্দেশ দেয় কমিশন।আর সেখানথেকেই সরকারের সঙ্গে অশোকবাবুর তীব্র মতোবিরোধ তৈরি হয়।তারপর অশোক গঙ্গুলি চেয়ারম্যানের পদ ছাড়তে বাধ্য হন।এর পর এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক ঐ পদে নিযুক্ত হন,কার্যত তিনি সরকারের কথায় যাবতীয় কাজ করে চলেন।এরপর এ বছরেই অবসর প্রাপ্ত এক বিচারপতি চেয়ারম্যান পদে বসলেও মানবাধিকার কমিশন সরকারের কোন অমানবিক কাজের বিরোধিতা করে নি বা করছে না,কার্যত কমিশনের কোন ভূমিকা নেই বলেই এ রাজ্যের মানবাধিকার সংস্থাগুলির অভিযোগ।মানবাধিকার কর্মী রঞ্জিত শূরের অভিযোগ পাহাড়ে ১৩ জন মানুষ পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন,ভাঙড়ে কৃষককে গুলি করে মারা হয়েছে,সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন করার অপরাধে নানা মামলায় মানুষকে জেরবার করা হচ্ছে,কোন ক্ষেত্রেই মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ জানিয়ে কোন ফল হয় নি,কমিশন মূলত সরকারের মুখপাত্র ছাড়া অন্য কিছু নয়।এবার কমিশনের সিদ্ধান্ত এ রাজ্যে ১০ তারিখের পরিবর্তে ৮ তারিখ মানবাধিকার দিবস উদযাপন হবে।কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে ঐ দিন মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকতে পারবেন,১০ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে মখ্যমন্ত্রীর সুবিধামতো মানবাধিকার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত।মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মীরা এই সিদ্ধান্তকে ব্যঙ্গ করে বলছেন,এ রাজ্যতো আসলে হীরক রাজার দেশ,রাজা নেই তবে রাণী আছেন,তাঁর ইচ্ছেতেই সব হয়,রাণী চাইলে আন্তর্জাতিক নিয়ম রীতিকে ছুঁড়ে ফেলতে আর কী লাগে!রাণী বললেন ১০ নয় ৮ তারিখেই করতে হবে মানবাধিকার উদযাপন,সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সভা পারিষদ বললেন ঠিক!ঠিক ঠিক!রাজ্যের মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মীরা বলছেন রাজ্য জুড়ে যে স্বৈরাচারের জন্ম দিয়েছে বর্তমান সরকার তার সঙ্গে যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ এই মানবাধিকার দিবসের দিনটাকে পাল্টে দেওয়া।

,