ঘুরে এলাম হোয়াইট ডেজার্ট-শীতে ঘুরে আসতে পারেন—বরুণ দাস

গুজরাতের ভূজ থেকে সড়ক পথে ঘন্টা দুয়েকের পথ।নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আমাদের সামনে হোয়াইট ডেসার্ট লেখা সাইন বোর্ড নজরে এল। বেলা তখন সোয়া বারোটা।কাছাকাছি একই নামের হোটেল ও রিসর্টের বিজ্ঞাপন ওচোখে পড়ল।কচ্ছ-রানের এই হোয়াইট ডেজার্টের ছবি আগে কখনও দেখিনি।চোখের সামনে যখন তা উপস্থিত আনন্দ বিস্ময় ধরে রাখা সত্যিই মুশকিল হচ্ছিল।ভাল লাগার এক অন্য মাত্রায় আমি ও আমার সফরসঙ্গী বন্ধুবর নিত্যানন্দ ঘোষ তখন রীতিমতো আপ্লুত।নিত্যদা তখন ব্যস্ত হয়ে পড়লেন তাঁর ক্যামেরার লেন্সে ধরে রাখতে কচ্ছ রানের সেই অসামান্য নান্দনিক চিত্রাবলি।

আমাদের গাড়ি ক্রমে বাঁক নিলো ডানদিকে।সমুদ্রতটের পেট চিরে সরু সোজা রাস্তা।যেন জেটিতে যাবার একফাঁলি কৃত্রিম পথ।দূর থেকে নজরে এল দূরে আর কয়েকটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে সামনের জলে ঘেরা সমুদ্র চাতালে।চালক ইউনিস ভাই তাঁর গাড়ির সাওয়ারিদের জিজ্ঞাসা করলেন,বলুন তো এখানে জল কতটা গভীর?সমুদ্রের জলের গভীরতা নিয়ে আমাদের কোন ধারণা না থাকায় জবাব দিতে পারলাম না,তবু ইউনিস ভাই অনুমান করে বলতে বললেন,তাও পারলাম না।আমাদের অপার অজ্ঞতা বুঝে,স্থানীয় গাড়ি চালক ইউনিস ভাই জানান বড় জোর হাঁটু জল হবে!আমরা তখন বিস্ময়ে থ,সমুদ্রে হাঁটু জল!ইউনিস তখনও বলে চলেছেন,শীতের সময় এই হাঁটু জলও থাকে না,তখন একেবারে খটখটে এলাকা।তখন চারদিকে শুধু নুনে ঢাকা বালিয়াড়ি।যাকে বলে হোয়াইট ডেজার্ট।আমাদের গাড়ি এসে থামলো হোয়াইট ডেসার্টের উঁচু টাওয়ারের সামনে।আমরা নিচে দাঁড়িয়ে দেখলাম বেশ কয়েকজন উঠছেন সেই তিনতলা সমান বিশাল টাওয়ারের শীর্ষদেশে,সমুদ্র-সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইছেন পুরোমত্রায়।ইউনিস ভাই এখানে আমাদের গাইড,বললেন যান উপরে যান ভাল লাগবে,পুরো ভিউটা পাবেন।আমরা উপরে উঠতে থাকি।ধীরে ধীরে আমরা উঠছি সরু সিঁড়ি বেয়ে,মধ্য দুপুর,মাথার উপর উজ্জ্বল রোদ,তবে সমুদ্রের উত্তাল হাওয়ার কারণেই বোধহয় সূর্য দেব এখানে কিছুটা কোণঠাসা।রোদ আছে তবে তার তাপ সহ্য করা কঠিন মনে হচ্ছে না।এক দুই তিন একে একে সব ধাপ পেরিয়ে উপরে উঠি।এখান থেকে আরব সাগরের রূপ যৌবন যেন এক অন্য মাত্রায় উপস্থিত,এ সৌন্দর্যের ব্যাখ্যা করা যায় না,শুধু তাকে উপলব্ধি করতে হয়,অন্তর্গত বোধের মধ্যেই তাকে ধরে রাখতে হয়।হোয়াইট ডেসার্টের শীর্য থেকে আরব সাগরের অপার সৌন্দর্য দেখে আমার তাই মনে হতে থাকে।

ইউনিস ভাই বলছিলেন,এখন আর কি দ্খছেন দাদা,ডিসেম্বরে মেলার সময় আসুন,তখন দেখতে পাবেন হোয়াইট ডেসার্টের আসল সৌন্দর্য!ওঁর কাছেই শুনলাম ডেসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি-টানা তিন মাস এখানে মেলা চলে,দেশ বিদেশ থেকে বহু মানুষ আসেন এখানে।থাকার জন্য সেসময় অস্থায়ী হোটেল,রিসর্ট,ব্যঙ্ক ও এটিএম কাউন্টারও বসানো হয় ।এলাকাটা একেবারে জমজমাট থাকে সে সময়।হোয়াইট ডেসার্টে ঘুরতে যাওয়ার সেটাই নাকি আসল সময়।আমরা অবশ্য সেপ্টম্বরের শেয দিকে এসেই যে অপার সৌন্দর্য দেখলাম  গুজরাতের পাকিস্থান সীমান্তবর্তী এই জায়গাটার তাতেই মুগ্ধতার রেশ কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।ইউনিস ভাই আমাদের বললেন এখানে নাকি আর দুটি দ্রষ্ট্রব্য স্থান আছে,এক ইন্ডিয়া ব্রিজ ও ব্ল্যাক হিলস্ আর আটশো টাকা দিলে সে আমাদের সেখানে নিয়ে যেতে পারে বলে জানাল।তবে মুশকিল হলো আমাদের বাজেট সীমিত টাকা ফুরিয়ে আসছে,আমরা তিনশো টাকার বেশী পারবো না বললাম,প্রথমে রাজি না হলেও অনেক দরাদরির পর ইউনিস রাজি হোল,আসলে সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুটা গুজরাটের পর্যটনের ক্ষেত্রে অব সিজন তাই ওরাও বেশী দাবি করে পায় না।অতপর আমাদের সাধ পূর্ণ হোল দেখে এলাম ইন্ডিয়া ব্রিজ ও ব্ল্যাক হিলস,ভাল লাগার আবেশ ছড়িয়ে পড়লো হৃদয় জুড়ে।অনেক উঁচু থেকে কেউ যদি দেখতে চান গোটা আরব সাগরটাকে,যদি প্রবেশ করতে চান মায়াময় প্রকৃতির গহনে,তাহলে বলবো চলে যান হোয়াইট ডেসার্টে,ডিসেম্বরটাই কিন্তু উপযুক্ত সময়,তৈরি হয়ে যান।খরচ বেশী নয় আমাদের মতো অবসর প্রাপ্ত মানুষরা যদি যদসামান্য পুঁজি নিয়ে ঘুরে আসতে পারি আপনারাও পারবেন,শুধু কয়েকদিন শারীরিক পরিশ্রমকে একটু ব্যবহার করবেন দেখবেন তাতে শরীর মন দুইই ভাল থাকবে।শুভেচ্ছা রইলো।