অরুণাচল দত্ত চৌধুরীর সাসপেনশনের ইস্যুতে বেসুরো গানওয়ালা

রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির প্রকোপ যে ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে তা চাপা দিতে,প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার।সেই সূত্রেই ফেসবুকে ডেঙ্গি নিয়ে একটা ছড়া পোষ্ট করে সরকারি রোষানলে পড়তে হয়েছে বারাসাত হাসপাতালের বর্ষিয়ান ডাক্তারবাবু অরুনাচল দত্তচৌধুরীকে। তাঁর ছড়ার মধ্য দিয়ে সরকারি তথ্য প্রকাশ হয়ে গেছে এই অভিযোগে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যেই অরুনাচলবাবুকে সাসপেন্ড করেছে। সরকারের এই তুঘলগি সিদ্ধান্ত নিয়ে স্যোশাল সাইটে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে,প্রতিবাদ করছেন একাধিক ডাক্তার সংগঠন থেকে সাধারণ মানুষজন পর্যন্ত।এই প্রতিবাদে অংশ নিয়ে জনৈক সোমেন রায় নামে এক ব্যক্তি তাঁর ফেসবুক পেজে লেখেন,কোন শাসক সত্যি কথা শুনতে চায় না। উদাহরণ দিয়ে তিনি লেখেন এক সময় বাম শাসকরা কবীর সুমনের গানের জন্য হল ভাড়া দিতে চাইতো না,নানাভাবে কবীর সুমনের প্রতিবাদী গানকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা হতো,আর এখন সরকার বদলালেও শাসকের সেই মানসিকতার কোন বদল হয়নি।এখন সরকারি ফরমান জারি করে সত্য বলার অপরাধে সাসপেন্ড হতে হয় অরুণাচল বাবুদের।লেখার শেষ অংশে এই ভদ্রলোক সাধারণ নাগরিকদের কাছে আবেদন রাখেন,ক্ষমতার অভিমুখ ধরে চলা সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করার।এই ভদ্রলোক কবীর সুমনের ফেসবুক ফ্রেন্ড হওয়ায় কবীর সুমনও এই লেখাটি তাঁর পেজ থেকে শেয়ার করে দেন।কিন্তু কিছু সময়ের ব্যবধানে আচমকাই বেসুরো বাজতে শুরু করেন এই গানওয়ালা,নিজের ফেস বুক পেজে লেখেন,অরুণাচল বাবু আর তার কোন তুলনা হয়না,তিনি সরকারি চাকরি করতেন না,যেহেতু অরুণাচলবাবু সরকারি চাকুরে তাই তাঁর নিয়ম মানা উচিত ছিল।তাঁর যে ঐ লেখাটা শেয়ার করা উচিত হয়নি তাও জানান কবীর সুমন।এর পর একের পর এক লেখা পোষ্ট করে এই গানওয়ালা বোঝাতে চান অরুণাচলবাবুর ছড়াটি চতুর্থ শ্রেণীর,তিনি যে মমতাকে অন্যায়ভাবে আক্রমণ করেছেন তার জন্যও ঐ সরকারি ডাক্তার বাবুকে মাকু পার্টির দালাল ও আর নানা কুরুচিকর মন্তব্য করেন।মজার ব্যাপার কবীর সুমন নিজে তাঁর লেখা বা কথায় শালীনতার ধার না ধারলেও ডাক্তার অরুণাচল দত্তচৌধুরি কেন ছড়ায় মমতার হাওয়াই চোটি প্রসঙ্গ তুললেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটা কুরুচিকর বলে অভিযোগ তুলেছেন।আমাদের প্রশ্ন প্রতিবাদী হিসেবেই তো পরিচিতি ছিল এই গানওয়ালার,তিনি আচমকা এরকম সরকারপন্থী হয়ে উঠতে চাইছেন কেন?কেউ কেউ অবশ্য বলছেন রঙ পাল্টানোতে এই গানওয়ালা যে কোন পেশাদার রাজনীতিককে হার মানাতে পারেন,উনি সবটাই হিসেব কষে করেন,হিসেব কষে মাওবাদী নেতা কিষেণজিকে নিয়ে গান লিখে  বিপ্লবী ইমেজ ধরেন,আবার হিসেব কষেই মুখ্যমন্ত্রী মমতার নামে এ রাজ্যে একদিন মন্দির হবে বলে ঘোষণা করেন। সেই হিসেবটাই একটু গুলিয়ে গেছিল ভাল করে না দেখে,না পড়ে ফেস বুকের একটা লেখা আচমকা শেয়ার করে দেওয়ায়।কোন ‘শুভানুধ্যায়ীর’ পরামর্শে সম্বিত ফেরার পর হয়তো শুরু করেছেন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা।তবে গানওয়ালার সরকারি আনুগত্য খাওয়ার বদ হজমজনিত এই ঢেকুর তোলাকে বিশেষ পাত্তা দিচ্ছেন বলে মনে হয় না অরুণাচল দত্তচৌধুরির পাশে দাঁড়াতে চাওয়া প্রতিবাদীরা। কারণ এদিনও সরকারি ডাক্তারবাবুর পক্ষে মত জানিয়ে অসংখ্য লেখা পোষ্ট হয়ে চলেছে স্যোশাল নেটওয়ার্ক সাইটে। বোঝা যাচ্ছে বেসুরো বাজলে গানের গুরুত্ব হারায়।