লড়াকু মেরিকম এখন সকলের প্রেরণা–নিত্যানন্দ ঘোষ

মেরিকম ও লড়াই এখন সমার্থক।না,তাঁর কোন খিদদা নেই,যিনি সাঁতারু কোনিকে  বার বার ফাইট কোনি ফাইট বলে লড়াইতে উদ্বুদ্ধ করতেন,তাকে আগলে রেখে সব ময়দানি রাজনীতির মোকাবিলা করতেন নিজেই,কোনির লড়াইটা বেশীটাই লড়ে দিয়েছিলেন তাঁর খিদদাই,মেরিকম এরকম কোন খিদদার সাহচর্য পান নি তাই তাঁর লড়াইটা তাকে নিজের মতো করেই লড়তে হয়েছে।মোরিকম হয়তো নিজেই নিজেকে প্রেরণা দিয়েছেন,হয়তোবা নিজেই নিজেকে বলেছেন-মেরি কম তুমিই তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী। তা যদি না হবে তা হলে এ ভাবে তিনি কি ফিরে আসতে পারতেন!অবসরের তিন বছর পড়েও এভাবে ফিরে আসা যায়!এ তো একেবারে কল্পকথা,নিজেকে কী ভাবে মোটিভেটেড করলে এই উচ্ছতায় ওঠা যায় ভেবে অবাক হয়ে যেতে হয়।বন্ধুবর নীতিশ রায়ের গানের কয়েকটি লাইন মনে পড়ে যাচ্ছে,যতো হামলা করো সব সামলে নেবো,চ্যালেঞ্জ তোমায় যদি মারতে পারো….এক সময় সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কৃষক আন্দোলনে এই গান খুব গাওয়া হতো,মেরিকমও কী নীতিশের সেই হামলা রুখে দেওয়ার প্রেরণাতেই একের পর এক যুদ্ধ(বক্সিং) জিতে চলেছেন,হয়তো বা।

মণিপুরের ভূমিহীন কৃষক পরিবারের এই রমণী যেন একাই  অর্দ্ধেক আকাশের দাবিদার,তাঁর হার না মানা লড়াইয়ের গুণে।মণিপুরকে এমনিতেই বলা হয় হার না মানা অলংকারের ভূমি।মেরিকম যথার্থই সেই ভূমির অলংকার।তিনি শুধু নারীজাতীর প্রতিনিধি নন,তিনি সমগ্র ভারতবাসীর লড়ইয়ের প্ররণা,পেছিয়ে থাকা একটা এলাকা থেকে যেভাবে তিনি একের পর এক সাফল্য ছিনিয়ে এনেছেন তা তাঁর নিষ্ঠা ও একাগ্রতাকে চিহ্নিত করে।পাঁচবারের এশীয় চ্যাম্পিয়ান,পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন,২০১২ তে অলিম্পিকে ব্রোঞ্চ পদকজয়ী তিনি জয়ের ক্ষিদেকে এখনও বাঁচিয়ে রেখেছেন।তিন সন্তানের জননী,রাজ্য সভার সাংসদ হয়ে নিজের কাজ করে আরার তিনি ময়দানে ফিরতে পারেন,এবং জিততে পারেন।একাগ্রতা,নিয়মানুবর্তিতা,শৃঙ্খলা তাঁকে অনন্য করে তুলেছে,অসম্ভব শব্দটাকে তিনি তাঁর অভিধান থেকে মুছে দিতে পেরেছেন।লক্ষ্যে অবিচল থাকার দৃঢ়তা তাঁকে লেজেন্ড করে তুলেছে।তাই তো ভিয়েতনামে চ্যাম্পিয়ান হওয়ার পরেও তিনি তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য স্থির করে ফেলেন,সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়ে দিয়েছেন কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমস জিততে চান তিনি।তবে তাঁর আগে তাঁর ইচ্ছা কয়েকদিন একটু পেট ভরে খাবেন,শরীর ফিট রাখতে তিনি খাওয়া কমিয়েছেন,ওজন কমিযেছেন,কতটা নিষ্ঠা,কতটা পেশাদারি মানসিকতা তিনি রপ্ত করেছেন তা সহজেই অনুমেয়।যে নারীরা প্রতিদিন পুরুষের সফট টার্গেট হয়ে চলেন নানা প্রলোভনে ভুলে তাদের কাছে মেরিকম এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত,লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠতে পারেন।এভাবেই ছড়িয়ে পড়ুক মেরিকমের লড়াই।দিকে দিকে উত্তোলিত হোক মেরিকমদের মতো মাটি থেকে উঠে আসা সাধারণ মেয়েদের লড়াই জেতার বিজয় পতাকা।