প্রশাসনিক কাজের ব্যর্থতা মেনেও সরকারি উন্নয়নের দরাজ প্রচার করেন কিভাবে মুখ্যমন্ত্রী?

এ রাজ্যে এক নতুন ধারা চালু হয়েছে,মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক,বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জেলায় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আধিকারীকদের নিয়ে সরকারি কাজের ফিরিস্তি দেন,কে কতটা কাজ করেন তার পর্যালোচনা করেন।এমনিতে এই কাজগুলোই তাঁর করার কথা প্রতিদিনই,সরকারি কাজ কতটা হলো,কোন দপ্তর কতটা কাজ করতে পারলো,কোথায় কতটা খামতি থাকছে,ফাইল ঠিক মতো তৈরি হচ্ছে কিনা,প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে সেটাই তো তাঁর কাজ।আলাদা করে প্রশাসনিক বৈঠক ও ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে প্রায় প্রতিটি সংবাদ চ্যানেলে তার লাইভ সম্প্রচারের মানে এ রাজ্যের অনেকের কাছেই হয়তো পরিষ্কার নয়।তবু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছেতে ধারাবাহিকভাবে চলছে এই প্রশাসনিক বৈঠক।বুধবারও একইভাবে উত্তর বঙ্গের উত্তর কন্যায় অনুষ্ঠিত হল প্রশাসনিক বৈঠক।কুচবিহারে কন্যাশ্রী প্রকল্পের কাজ ভাল হয় নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী,এই জেলায় সামগ্রিক উন্নয়নের কাজ অনেকটা পেছিয়ে আছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।একই সঙ্গে কোন কোন সরকারি আধিকারীকের কাজ নিয়েও তাঁকে উষ্মা প্রকাশ করতে দেখা যায়।যদি মুখ্যমন্ত্রীর বিগত প্রশাসনিক বৈঠকগুলি পর্যালোচনা করা যায় তাহলে আমরা দেখবো সব জায়গাতেই তিনি প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের কাজে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন,তাঁর নিজের দলের নেতা কর্মীদের কাজে বেনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।এখানেই প্রশ্ন ওঠে প্রশাসনিক কাজের ব্যর্থতা,দলের নেতাদের অবৈধ কার্যকলাপ মেনে নিয়েও কিভাবে রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে দরাজ প্রচার করেন,কিভাবে বলেন তাঁর দলের সবাই নীতিনিষ্ট-আদর্শ তাড়িত?যে নেতাদের প্রশাসনিক বৈঠকে একা সব খেয়ে নেবার জন্য তিনি তিরস্কার করেন,সেই নেতাদের আদর্শবান বলে প্রচার করেন কীভাবে?যে সরকারি আধিকারীককে প্রশাসনিক বৈঠকে ভাল কাজ করতে না পারায় অসন্তোষ জানালেন তাদের কাজেই আবার রাজ্যের অপার উন্নয়ন হয়েছে বলে জানান কীভাবে?তা হলে সবটাই কি গিমিক,রাজনৈতিক কৌশল?