ওঁদের কান্না কেন শহুরে নাগরিক সমাজ শুনতে পায় না!

জিডি বিড়লা ইস্কুলের এক চারবছরের শিশুকে যে ভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে,তাতে বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে সামাজিক অধঃপতন কোন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বিকৃতকামের বলি যে শিশু সে সমাজকে কোন চেখে দেখবে তা নিয়ে নানা স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। আমাদের মধ্যবিত্ত নাগরিক সমাজ এই ঘটনার পরে আবার প্রতিবাদে সরব হয়েছে,প্রতিবাদ ধ্বণিত হতে দেখা যাচ্ছে মধ্যবিত্ত দর্শক কেন্দ্রিক  মিডিয়াতেও। যে ঘটনা চার বছরের শিশুর সঙ্গে ঘটেছে তার প্রতিবাদ হওয়া অবশ্যই উচিত তাতে কোন সন্দেহ নেই,কিন্তু আমাদের বক্তব্য এটা কী আদৌ কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা?ধারাবাহিকভাবে এধরনের ঘটনাই কি ঘটে যাচ্ছে না এ রাজ্যে,উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘীতে ১৪ বছরের এক স্কুল পড়ুয়া কিশোরীকে যখন একদল দুষ্কৃতী বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও খুন করে বাড়িতে তার দেহ রেখে আসে,সেই ঘটনা কী কম ভয়াবহ!কিংবা ৬২ বছরের পৌঢ়া যখন একদল মদ্যপ যুবকের লালসার বলি হন,তার যৌনাঙ্গে যখন মদের বোতল ঢুকিয়ে দিয়ে উল্লাস করে তার সন্তান তুল্য লম্পটের দল,সেই ঘটনাও কি সমাজের ক্ষতগুলোকে বে আব্রু করে দেয় না?আমাদের প্রশ্ন জিডি বিড়লার ঘটনা কি সেই সব ঘটনার ধারাবাহিকতাকেই সামনে আনে না?আজ জিড়ি বিড়লা নিয়ে প্রতিবাদ হচ্ছে,মিডিয়া সারাক্ষন প্রচার করছে,খুব ভাল কথা কিন্তু সমাজের প্রান্তিক পরিবারের মেয়েদের নির্যাতিতা হতে দেথে মিডিয়া সেভাবে প্রচার করে না কেন?উত্তর দিনাজপুরের কিশোরী এক দিন মজুরের মেয়েকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে খুন করা হলেও  সেরকমভাবে রাজপথে মানুষ প্রতিবাদে সামিল হন না। উপেক্ষা করে  মিডিয়াও। তার বেলায় প্রতিবাদ শোনা যায় না কেন?কেন সাধারণ ঘরের প্রৌঢ়া ধর্ষণের শিকার হলে বা গৃহবধূকে বাড়িতে ঢুকে ধর্ষণ করা হলে তার জন্য প্রতিবাদে এগিয়ে আসে না কেউ? নিম্ন বিত্ত আদিবাসী সম্প্রদায়ের মহিলাদের নির্যাতনের যন্ত্রনা কম,এমনটা তো প্রমাণিত হয়নি কোথাও,তাহলে? আসলে বোধহয় বৈষম্যটা থেকে গেছে আমাদের সমাজিক বোধে,মধ্যবিত্ত সমাজ এখোনও নিজেদের উপর আক্রমণ না আসলে প্রতিবাদ করে না,প্রতিরোধে নামে না। প্রন্তিক মানুষের হাহাকার যন্ত্রণাকে অনুধাবন করার উদারতা আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজ ক্রমশ হারিয়ে ফেলছে। তাই আদিবাসী মহিলারা দিনের পর দিন ধর্ষিতা হলে,তাদের পরিবারের মেয়ে বৌ রা রক্তাক্ত হলেও কলকাতার বিশিষ্টজনেরা,যাঁরা মধ্যবিত্তের শ্রেণি বিন্যাসের মধ্যে পড়েন তাঁরা নীরব থাকেন,কোন রা কাড়েন না,মিডিয়াও বিষয়টির গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। আমরা বলছি যে প্রতিবাদ জিডি বিড়লা নিয়ে শোনা যাচ্ছে সেই একই রকম প্রতিবাদ কেন সব ক্ষেত্রে হবেনা,কেন সমাজের প্রান্তিক নিম্ন বিত্ত শ্রেণীর মহিলাদের নিপীড়নেও সবাই প্রতিবাদে ঝাঁপিয়ে পড়বেন না?শ্রেণী নির্বিশেষে সব মহিলার নির্যাতনে সমাজ যতোদিন সরব হতে না পারছে, মিডিয়া যতোদিন সব মহিলাকে একইরকম গুরুত্ব দিতে না পারছে ততোদিন বোধহয় ধর্ষণ বিরোধী লড়াইটাও সার্বিক ও সর্বাত্মক হয়ে উঠতে পারবে না,মধ্যবিত্তের বোঝার সময় এসে গেছে অন্যের ঘর অরক্ষিত থাকলে নিজের ঘরটাও সুরক্ষিত থাকে না।