পদ্মাবতী বিতর্ক ও রাজ্যের বুদ্ধিজীবী সমাজ

গোটা দেশে পদ্মাবতী সিনেমাটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।এই বিতর্ক তৈরির পেছনে রাজনৈতিক হিসেব নিকেশ কাজ করছে তা বোঝবার জন্য কোন পন্ডিত হওয়ার দরকার হয় না।রাজপুত ভাবাবেগে আঘাত লাগার অজুহাতে যারা ছবিটি মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে চাইছে তাদের যেমন একটা রাজনৈতিক হিসেব আছে,উল্টোদিকে যারা শিল্পের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে ছবিটি প্রদর্শনে বাঁধা দেওয়ার বিরুদ্ধে পথে  নেমেছেন তাদেরও একটা হিসেব কাজ করছে।এ রাজ্যের তথাকথিত বিশিষ্টজনদের আমরা আবার শিল্প ও শিল্পীর স্বাধীনতা নিয়ে সরব হতে দেখলাম।আপাতভাবে ভাবে দেখলে এটা স্বাভাবিক,সত্যিইতো শিল্প ও শিল্পীর স্বাধীনতার জন্য সমাজের বিশিষ্টজনেরা আওয়াজ তুলবেন,প্রতিবাদ মুখর হবেন সেটাই তো উচিত,সেটাই তো কাম্য।চিন্তাশীল মানুষজনদের কাছেই তো এরকম সচেতনতা সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করেন।তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু বাঁকা প্রশ্নও থাকছে।বিশিষ্টজনেরা সবসময় একই ভঙ্গিতে প্রতিবাদ করেন না কেন,এ রাজ্যে আমরা বার বার দেখেছি,নানা সামাজিক অনাচার দেখেও বিশিষ্টজনেরা চুপ থেকেছেন।রাজ্যে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা দেখেও বিশিষ্টজনরা সরকারকে তার বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আবেদন করেন নি,এক পৌঢ়া বৃদ্ধা যখন একদল মদ্যপ যুবকের লালসার বলি হয়ে প্রাণ হারান,কিংবা ১৪ বছরের এক স্কুল পড়ুয়া কিশোরী যখন ধর্ষণ ও খুন হয় তখনও বিবেগ কাঁপে না কোন বিশিষ্টজনের।অনুব্রত মন্ডলের হুমকিতে যখন পুলিশ কাঁপতে থাকে,আর তার নির্দেশে যখন বীরভূমের বাড়িতে কৃষক পরিবারগুলোতে লাগাতার অত্যাচার চালায় অনুব্রতের অনুগতরা তখন কোন বিশিষ্টজন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবার কথা বলেন না,মানুষের স্বাধীন জীবন যাপনের পক্ষে গলা তুলতে খুঁজে পাওয়া যায় না কোন বিশিষ্টজনকে।আজও জানা গেল না কাদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিল ভাঙড়ের প্রতিবাদী কৃষকপরিবারের লোকজন।কোন বিশিষ্টজনই এ নিয়ে সরকারকে কোন প্রশ্ন কারার সাহস দেখাতে পারেন নি আজ পর্যন্ত।এখন যখন এ রাজ্যে পদ্মাবতীর পক্ষে মত দিতে দেখা যাচ্ছে সমাজের বিশিষ্টজনদের তখন তাঁদের কাছে আমরা জানতে চাইতেই পারি কোথয় ছিলেন আপনারা তখন, যখন নন্দনে রাজ্য সরকারের বদান্যতায় কাঙাল মালশাটের প্রদর্শন বন্ধ হয়ে গেছিল,তখন শিল্প শিল্পীর স্বাধীনতা নিয়ে আপনাদের উদ্বেগ কোথায় ছিল?কোথায় ছিলেন আপনারা যখন তসলিমা নাসরিনের লেখা নিয়ে তৈরি হওয়া ধারাবাহিক প্রদর্শন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল একটা টিভি চ্যানেল?আজ রাজ্য সরকার পদ্মাবতীর বিরুদ্ধে তার অবস্থান জানিয়েছে তাই বুঝি আপনাদের শিল্প শিল্পীর স্বাধীনতা নিয়ে  হুশ জেগে উঠেছে?এত হিসেব,এত অংক কষে প্রতিবাদ হয়,এভাবে শিল্প শিল্পীর স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান রাখা যায়?না যায় না,বিশ্বাস করুন মাননীয় বিশিষ্টজনেরা,সাধারণ মানুষ আপনাদের আর বিশ্বাস করে না,তাঁরা তাদের অভিজ্ঞতায় বুঝে নিয়েছেন আপনারা বিশেষ ধান্দার কারণেই প্রতিবাদ প্রতিবাদ খেলা খেলতে নামেন।প্রতিবাদ প্রতিরোধ বিষয়গুলো খুবই বিশুদ্ধ সংবেদনশীলতার বিষয়,সেখানে কোন ব্যক্তি স্বার্থ থাকতে নেই,থাকা উচিত নয় আমাদের বিশিষ্টজনেরা সেই বোধ ও শিক্ষায় নিজেদের নতুন করে উদ্দিপ্ত করতে চেষ্টা করুন,নিজেদের অবস্থান নতুন করে পর্যালোচনা  করুন      তা না হলে মানুষের চোখে তাঁরা প্রতিদিনই ছোট হয়ে যেতে থাকবেন।শিল্প শিল্পীর স্বাধীনতার গুরুত্ব সাধারণ মানুষ বোঝেন,তারাই হাতে হাত রেখে কোন রাজনীতির হিসেব নিকেশের বাইরেই তা রক্ষা করবেন,তার জন্য অংক কষা বুদ্ধিজীবীদের উপদেশের কোন প্রয়োজন পড়বে না তা বলাই বাহুল্য।