কিশোরী মরে প্রমাণ করলো উন্নয়ন আসতে এখনও দেরি

রাজ্যজুড়ে উন্নয়নের ঢক্কানিনাদ যখন প্রতিদিন কান ঝালাপালা করে দেয় তখন এ রাজ্যে কলকাতার খুব কাছেই এক কিশোরী সাপের কামড়ে মরে গিয়ে প্রমাণ করল এ রাজ্যে উন্নয়ন এখনও অনেক দূরে।এলাকা কলকাতা মোট্রোপলিটন ডেপলপমেন্ট অথরিটির আওতায়,তবুও কাঁচা রাস্তা,রাতে আলোহীন,জায়টির নাম সোনাপোতা।গত ১০ ডিসেম্বর এই এলাকা থেকেই প্রাইভেট টিউশন নিয়ে রাতের অন্ধকারে বাড়ি ফেরার সময় দশম শ্রেণির ছাত্রী ঈষিতা মন্ডলের পায়ে একটা জোর কামড় পড়েছিল,তার দুই বন্ধু সঙ্গে সঙ্গে টর্চ জ্বালালে দেখা যায় একটা সাপ চলে যাচ্ছে।এর পর ঈষিতাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে,একাধিক জায়গা ঘুরতে হয় বলে পরিবারের অভিযোগ,ঈষিতার পরিবারের আর অভিযোগ,ঝাঁ চকচকে উপনগরীতেও অন্ধকারেই থেকে গেছে সোনাপোতা,এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় যেতে হলে বাঁশের সাঁকোই ভরসা।তাই পায়ের যন্ত্রণায় কাতর মেয়েকে কোন ক্রমে চ্যাংদোলা করে সাঁকো দিয়ে নিয়ে সোনাপাতা মোড়ে আসতেই নষ্ট হয় অনেকটা সময়।তারপর সেখান থেকে প্রথমে পিয়ারলেস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে ভুল ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়,বেজির কামড়ের ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ,আ্যন্টিভেনম দেওয়া হয়নি,পরিবার নিয়ে যায় বাঙুরে,সেখানে আ্যান্টিভেনম দিলেও পরিকাঠামো না থাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় চিত্তরঞ্জন মেডিকেল হাসপাতালে,সেখানে ডায়ালিসিসের পরিকাঠামো না পাওয়ায়,নিয়ে যেতে হয় আমরিতে,সেখানকার বিল মেটাতে অপারক পরিবার শেষপর্য়ন্ত ঈষিতাকে নিয়ে যান যাদবপুরের এক নার্সিং হোমে।সেখানেই গত শুক্রবার মারা যায় ঈষিতা।ঈষিতার বাবা কান্না ভেজা গলায় জানতে চান,রাস্তা আলোর এত ছড়াছড়ি,হাসপাতালের উন্নয়নের এত প্রচার তবে তাদের এলাকার রাস্তার কেন বদল হয় না,কেন সরকারি হাসপাতাল সাপে কাটা মেয়েকে সারিয়ে তোলার পরিষেবা দিতে পারে না?প্রশ্নগুলো কঠিন আর উত্তরটাও সবার অজানা,তবে এরই মধ্যে শনিবার ঈষিতার দেহ সোনাপোতায় এনে অনেকটা পথ হেঁটে বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে প্রতিবেশীরা।উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতি করা ব্যবসায়ীদের বিবেকে এই কিশোরীর মৃত্যু কোন আলোড়ন তুলতে না পারলেও,জীবন দিয়ে কিশোরী ঈষিতা প্রমাণ করে গেল উন্নয়ন এখনও অনেক দূরে।

,