সবং এ তৃণমূলের জয়,উপনির্বাচনে শাসক দলের প্রাধান্যের চিরাচরিত রীতিকেই প্রতিষ্ঠা দিল

সবং বিধান সভার উপনির্বাচনে জয়ী হল তৃণমূল,এই আসনটি দীর্ঘদিন কংগ্রেস দলের দখলে ছিল।মানস ভূঁইয়া কংগ্রেসের প্রর্থী হিসেবে এই কেন্দ্র থেকে একাধিকবার বিজয়ী হয়েছেন।গত ২০১৬ সালের বিধান সভাতেও  এই কেন্দ্র থেকে মানসবাবু সিপিএম ও কংগ্রেসের য়ৌথ প্রার্থী হিসেবে ৫০ হাজারেরও বেশী ভোটে জয়লাভ করেন।বিধানসভায় জেতার পরেই তিনি দলত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দেন,তারপর নিজে রাজ্যসভার সাংসদ হয়ে সবং উপনির্বাচনে নিজের স্ত্রীকে প্রার্থী করার আর্জি রাখেন শাসক দল তৃণমূলের কাছে।গিতারানি ভূঁইয়া সেই সূত্রেই এবার সবং এ তৃণমূলের প্রার্থী হন।রবিবার উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেখা যায় তৃণমূল এই কেন্দ্রে জয় লাভ করেছে,জয়ের ব্যবধান ৬১,৩৯৪,দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিপিএম,তারা পেয়েছে ৪৭হাজারেরের কিছু বেশী ভোট।আশ্চর্যের বিষয় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি সবং এ এবার কংগ্রেস শেষ স্থানে চলে গেছে,তৃতীয় জায়গায় উঠে এসেছে বিজেপি।এমনিতেই এ রাজ্যে চিরাচরিত রীতি হল যে কোন উপনির্বাচনে শাসক দলই অনেকটা এগিয়ে থাকে,বাম আমলেও বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটিতে উপনির্বাচন হলে শাসক দল আশ্চর্যজনকভাবে জিতে যেত,সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখল সবং,এখানে তৃণমূল বার বার হারলেও উপনির্বাচনে জিতে গেল,তাও আবার অনেক বেশী ভোটে।সকলেই জানেন মানস ভুঁইয়ার নামে,তৃণমূল কর্মী খুনের অভিযোগে এফআইআর হয়েছিল,তারপর নানা টালবাহানার পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন,সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নাম এফআইআর থেকে বাদ পরে যায়,তিনি রাজ্য সভার টিকিট পান।এলাকার মানুষের কাছে তাঁর ভাবমূর্তি কোন যুক্তিতে এতটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল যে তাঁর স্ত্রীকে সবং এর মানুষ এমন উজার করা ভালবাসা দিয়ে বসলেন?সবটাই গণতন্ত্রের মহিমা,নাকি শাসক দলের মাসল মানি আর প্রশাসনিক ক্ষমতার মহিমা,এ প্রশ্নের উত্তর কোনদিন অবশ্য  মিলবে না তা বলাই বাহুল্য।

,