ভাঙড়ে আবার গুলিবিদ্ধ জমি রক্ষার আন্দোলনকারী

ভাঙড়ে আবার গুলিবিদ্ধ হলেন পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলন করে জমি বাঁচানোর লড়াই করতে থাকা গ্রামবাসী।ভাঙড় আন্দোলনের পাশে থাকা সংহতি কমিটির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার অভিযোগ করা হয় এদিন দুপুরে পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনকারীরা দক্ষিণ গাজীপুর এলাকায় একটি সংগতি মিছিল করার সময় শাসক তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী আন্দোলনকারীদের উপর বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা শুরু করে।তাতেই ভাঙড়ের আন্দোলনকারী তিন গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হন।আর কয়েকজনের আহত হবারও খবর পাওয়া যাচ্ছে।গুলিবিদ্ধ দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে,তাদের কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে ভাঙড় আন্দোলন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।বছরদেড়েক আগেও এই এলাকায় গুলি চলেছিল,তাতে নিহত হয়েছিলেন প্রতিবাদী দুজন গ্রামবাসী।সেই সময় গুলি পুলিশ না স্থানীয় দুষ্কৃতীরা চালিয়েছিল সে বিষয়ে এখনও রহস্যই থেকে গেছে।এমনকি আদালতের কাছেও এ বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারে নি রাজ্য সরকার।ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনকারীদের অভিযোগ কোনভাবেই মানুষের প্রতিবাদকে ঠেকাতে না পেরে শাসক দল এখন গুন্ডা বাহিনী দিয়ে গ্রামবাসীকে ভীত সন্ত্রস্ত করে তোলার লক্ষ্যেই এরকম আক্রমন চালাতে শুরু করেছে।এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম জানিয়েছেন এ ঘটনায় তৃণমূলের কোন হাত নেই,এটা ভাঙড়ের জমি আন্দোলনকারীদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল।আরাবুলের দাবিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়ে ভাঙড়ে শাসকদলের জুলুমবাজীর বিরুদ্ধে বড় আন্দোলনের রাস্তায় হাঁটার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছেন ভাঙড়ের প্রতিবাদীরা।তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী রেজ্জাক মোল্লার অভিযোগ জমি রক্ষা কমিটির লোকজন বহিরাগতদের নিয়ে এসে এলাকায় অশান্তি বাঁধাবার চেষ্টা করছে,মাওবাদীরা এলাকায় ঢুকেছে বলেও মন্ত্রী অভিযোগ করেন।এই ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে,বেশ কয়েকটি মোটর বাইকে আগুন ধারান হয়,রাস্তা অবরোধও শুরু হয়ে যায়।পুলিশের মদতেই ভাঙড়ে সাধারণ মানুষের উপর আক্রমন শুরু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মানবাধিকার কর্মী অধ্যাপক সুজাত ভদ্র।সবমিলিয়ে ভাঙড়ে আবার উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

,