আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা না বলে মুখ্যমন্ত্রী আলোচনার জন্য নবান্নে ডাকলেন আরাবুল কাইজারদের

ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনকারীদের উপর গুলি ও বোমা নিয়ে আক্রমন কারার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের আরাবুল ইসলাম ও কাইজার আহমেদদের দিকে।বৃহস্পতিবার বার বার বোমা ও গুলির আওয়াজে রীতিমতো উত্তপ্ত ছিল গোটা ভাঙড়।গুলিতে তিনজন ঙাঙড়বাসী আক্রান্ত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে ভাঙড়ের জমি ও বাস্তুরক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে।ভাঙড় আন্দোলনকারীদের বার বার দাবি তুলতে শোনা গেছে সরকার যেন তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে,যেন কেন তাঁরা আন্দোলন করছে সে যুক্তি সরকার শোনে।তবে গত একবছরে সরকার তাদের একবারের জন্যও আলোচনায় ডাকেনি,মুখ্যমন্ত্রী একবার বলেছিলেন মানুষ না চাইলে পাওয়ার গ্রিড ওখানে বসানো হবে না,তবে বাস্তবে মুখ্যমন্ত্রী সে কথার কোন মু্ল্য রাখেন নি বলেই ভাঙড়বাসীর অভিযোগ।এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার আবার ভাঙড়ের আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে শাসক দলের গুন্ডা বাহিনী আক্রমন করে বলে অভিযোগ,অভিযোগের আঙুল মূলত উঠেছিল আরাবুল ও কাইজারদের বিরুদ্ধেই।পঞ্চায়েত ভোটের আগে এলাকায় শাসক দলের প্রধান্য প্রতিষ্ঠার জন্যই আবার এলাকায় সন্ত্রাস তৈরি করতে চায় শাসক দল,সেই লক্ষ্যেই ভাঙড়ের প্রতিবাদী মানুষকে ভয় দেখাতে আক্রমন করা হয়,নির্বিচার গুলি ও বোমা ব্যবহার করা হয়।প্রশাসনের মদতে এই আক্রমন হানা হয়েছে বলে রাজ্যের মানবাধিকার সংগঠনগুলিও দাবি করেছে।এ বিষয়ে শুক্রবার ভাঙড় সংহতি কমিটির পক্ষে কলকাতা প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারের কাছে দাবি করা হয়,অবিলম্বে ঐ ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে,ভাঙড়ের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।শুক্রবার মানবাধিকার কর্মী ও সামাজকর্মীরা যখন সরকারের কাছে এই দাবি করছেন ঠিক সে সময়তেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বৈঠক করলেন বুধবার ভাঙড়ে গুলি ও বোমা চালানোর অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে সেই আরাবুল ও কাইজারদের সঙ্গে।মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিলেন ভাঙড়ে তৃণমূলের সব গোষ্ঠীকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।ভাঙড়ে যাঁদের জমি নেওয়া হয়েছে পাওয়ার গ্রিডের জন্য তাঁদের ক্ষতিপূরণ ইঙ্গিতও দেওয়া হয় এদিন।প্রশ্ন উঠছে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁদেরই যদি নবান্নে বৈঠকে ডাকা হয় তাহলে তদন্ত বা সুবিচার মিলবে কী ভাবে?একটা এলাকায় গুলি বোমা চললো অথচ প্রশাসনের কোন বক্তব্য নেই,কেন?মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে বৃহস্পতিবার ভাঙড়ে হামলা ও গুলি চলার পরেও সে বিষয়ে কোন উদ্বেগ প্রকাশ না করে কিংবা কোন তদন্তের কথা না বলে,আরাবুল ও কাইজারদের ডেকে নবান্নে বৈঠক করলেন তাতে সন্দেহ হয় ভাঙড়ের মানুষকে সুশাসন দেওয়ার কথা তিনি ভাবছেন নাকি পঞ্চায়েত দখল করাটাই তাঁর মুখ্য ভাবনা।

,