রাজধর্ম ভুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী-বলছেন ভাঙড়বাসী

বৃহস্পতিবার যখন শান্তিপূর্ণ বাইক মিছিলের দিকে মূহুর্মূহু বোমা ও গুলি ধেয়ে আসছিল,তখন সেই মিছিলের পুরভাগে দাঁড়িয়ে পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনে ভাঙড়বাসীর পাশে থাকা সহযোগী অমিতাভ ভট্টাটার্য দেখছিলেন মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে একদল গুন্ডা বোমা ও গুলি চালাতে চালাতে ক্রমশ এগিয়ে আসছে,তাঁর কথায় গোটা এলাকায় তখন পুলিশের চিহ্ন মাত্র দেখা যাচ্ছেনা,আমার কাছ ঘেঁষে বেশ কয়েকটা গুলি চলে গেল,আমাদের আন্দোলনের বন্ধু সুফিয়ানের চামড়া ছুঁয়ে গেল একটা বুলেট,মরে যেতে পারতাম ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছি বলা যায়।বৃহস্পতিবার ভাঙড়ের মিছিলকারীরদের উপর যে প্রশাসনের সাহায্য নিয়েই সশস্ত্র আক্রমন নামিয়ে আনা হয়েছিল সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই ভাঙড়বাসীর।শাসকদলের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীদের আক্রমন থেকে কোন ক্রমে বেঁচে ফেরা অভিতাভ ভট্টাচার্যরা পরে খবর নিয়ে জেনেছেন গোটা আক্রমনের নেতৃত্বে ছিলেন আরাবুল ও কাইজারদের লোকজন,দুষ্কৃতীদের আক্রমনের পেছনে দলবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়েছিল পুলিশবাহিনী।পঞ্চায়েত ভোটে নিজেদের লাাগাম ধরে রাখতে শাসক দল এখন মরিয়া,গত একবছর ভাঙড়ের পাওয়ার গ্রিড সংলগ্ন এলাকায় শাসক দলের নিয়ন্ত্রণ নেই,ভাঙড়ের জমি জীবীকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে এলাকা।সেই নিয়ন্ত্রণকে আলগা করতেই এবার ঝাঁপাতে চাইছে শাসক দল।শাসক দল আর মরিয়া কারণ ভাঙড়ের আন্দোলনকারী কমিটি এবার পঞ্চায়েত ভোটে লড়ার ঘোষণা করেছে।রাজনৈতিক ক্ষমতা হারানোর ভয়েই শাসক দল এখন প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় রেখে গুন্ডা বাহিনী দিয়ে এলাকা দখল করতে চাইছে বলে ভাঙড়বাসীর ধারণা।আর এটা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজধর্ম ভুলে গেছেন,সেই জন্যই খোদ নবান্নে বসে তিনি দলীয় বৈঠক করে ভাঙড়ে যাদের অনুগামিদের বিরুদ্ধে বারবার এলাকায় সন্ত্রাস তৈরির অভিযোগ সেই আরাবুল কাইজারদেরই তেল্লাই দিয়ে এলাকায় উন্নয়ন মূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত হবার নির্দেশ দিচ্ছেন।অমিতাভদের অভিযোগ বৃহস্পতিবার যেভাবে গুলি চললো,বোমা ফেলা হল তাতে কোন তদন্তের ঘোষণা না করে প্রশাসন বুঝিয়ে দিচ্ছে তারা আসলে গণতান্ত্রীক যাবতীয় আন্দোলনকে স্বৈরাচারী পথেই মোকাবিলা করতে চায়।অভিতাভ ভট্টাচার্যের অভিযোগ বাম আমলে তবু প্রশাসনের সদর দপ্তরে ডিএমদের ডেকে পাঠিয়ে বৈঠক করা হতো এখন সে বালাই ও চুকিয়ে দেওয়া হয়েছে,এখন সরাসরি নবান্নে দলীয় বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী যাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তাদেরকেই এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দিচ্ছেন।শনিবার ভাঙড়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শান্তি মিছিল করে শাসক দল যার নেতৃত্ব দেয় আরাবুল ও কাইজার।কেন বৃহস্পতিবারের গুলি চালানো ও বোমা ফেলার কোন বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে না সরকারের পক্ষ থেকে,কেন দলীয় বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে বসে?এ সব প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না সংবাদ মাধ্যমেও।আর এ সব দেখে ভাঙড়ের প্রতিবাদী মানুষজন মনে করছেন রাজধর্ম ভুলে মমতা এখন শুধুই তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী।যে মমতা মা মাটি মানুষের কথা বলতেন তিনি এখন মাটির মানুষের প্রতিবাদকে আটকাতে গুলি আর বোমা দিয়ে তাঁর অনুগামীদের লেলিয়ে দিচ্ছেন বলে ভাঙড়ের প্রতিবাদীরা মনে করেন।সিপিএমের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার মূল্য চোকাতে হয়েছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে মমতাকেও তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার মূল্য চোকাতে হবে বলে ভাঙড়ের পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনকারীদের দাবি।যে ভাবে শনিবার পুলিশি সহযোগিতায় আরাবুলরা শান্তি মিছিলের নামে প্রতিবাদী মানুষজনদের হুমকি দিলেন তাতে পরিষ্কার,রাজ্য সরকার রাজধর্ম ভুলেছে,আর এই পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামের ছায়া দীর্ঘতর হচ্ছে ভাঙড়ে,যা আদপে শাসক দলের পক্ষে অশনিসংকেত।

,