রজনীর রাজনীতিতে প্রবেশ রাজনীতির রজনী দুর করতে পারবে!

২০১৮ শুরু ঙওয়ার দিনেই রাজনীতিতে প্রবেশ করার ঘোষণা করে দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত গোটা দেশে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন।এমনিতে দক্ষিণ ভারতে সিনেমার সুপারস্টারদেের রাজনীতিতে প্রবেশ কোন বিচিত্র বিষয় নয়,সেই ধারা দক্ষিণে বরাবরই রয়েছে।তবে রজনীকান্তের ক্ষেত্রে বিষয়টার আলাদা মাত্রা আছে কারণ অনেকবার বলা সত্ত্বেও তিনি রাজনীতির সংসর্গ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টাই বারবার করে এসেছেন।এখন তিনি যখন রাজনৈতিক দল তৈরি করে রাজনীতিতে প্রবেশের ঘোষণা করেন তখন তা আলাদা চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে বৈ কি!রজনীকান্ত ঘোষণা করেছেন তিনি বর্তমান রাজনীতির ময়লা দুর করবেন,দুর্ণীতি মুক্ত রাজনীতিই তাঁর লক্ষ্য।মানুষের সেবা করাই তাঁর দলের প্রথম কাজ হবে।কথাগুলো শুনতে মন্দ লাগে না,এমন কথা তো এ দেশের রাজনীতিকরা হামেশাই বলে থাকেন,কিন্তু কার্যক্ষেত্রে আমরা দেখি ঠিক তার উল্টো।অনাহার আর দারিদ্র যে দেশের মানুষের প্রধান সমস্যা সে দেশে দেশের নেতা মন্ত্রীরা রাজকীয় জীবন যাপন করেন,ব্যক্তিগত সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তোলেন,রিক্ত থেকে ক্রণশ আর রিক্ত হতে থাকে দেশের আমজনতা।রজনীকান্তের রাজনীতি দেশের এই চিত্রটা পাল্টে দিতে পারবে,পারবে দেশজোড়া দুর্নীতি দুর করতে?এ দেশের সরকার পয়সা ওয়ালাদের ঢালাও ব্যঙ্ক লটের সুযোগ করে দেয়,আর গরীব মনুষকে নানা অজুহাতে ব্যঙ্কের সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত করে।এদেশের সব রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষের স্বাধীন নাগরিকতার পরিসরকে অবরুদ্ধ করে তাকে দলতন্ত্রের আওতায় নিয়ে আসতে ব্যস্ত থাকে,গণতন্ত্রের নামে তৈরি হয় দলতন্ত্রের কড়া বেড়াজাল।গোটা ব্যবস্থাপনাটাই দুর্ণীতির অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়ে গেছে।ব্যবস্থাপনার বদল না করে নতুন কোন দল করে এই সামগ্রীক রাজনীতির দূষণকে কোন ভাবেই রোধ করা সম্ভব নয়।সবচেয়ে বড় কথা এদেশের মানুষের যন্ত্রণা হাহাকারকে হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করার সাধ্য যাঁদের নেই তারা কোনভাবেই এ দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্বের দাবি করতে পারে না।আগে মাটির কাছে যেতে হবে,এদেশের মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষের প্রতিদিনকার জীবন যন্ত্রণাকে চিনতে না পারলে তাদের সুরাহা করা সম্ভব হবে না।কোন প্রতিশ্রুতি নয় এ দেশের আমজনতা চায় রাজনীতিকরা তাঁদের যন্ত্রণার অংশীদার হোক,তাঁদের জীবন যন্ত্রণা ভাগ করে নিক।তা না করে এ দেশে হাজার রজনীর রাজনীতিতে প্রবেশও রাজনীতির রজনীকে ঘোচাতে পারবে না,তা বলাই বাহুল্য।

,