বর্ষবরণের রাতেও কলকাতার রাস্তায় মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগ

২০০২ এর ৩১ ,ডিসেম্বর বর্ষবরণের উন্মাদনার মধ্যে এক মহিলার শ্লীলতাহানি প্রতিরোধ  করতে গিয়ে কিছু মদ্যপ,হুল্লোরবাজ যুবকের জিঘাংসার বলি হতে হয়েছিল কলকাতার এক পুলিশ কনস্টেবল বাপি সেনকে।মদ্যপ হুল্লোরবাজ যুবকের দল বাপি সেনকে এমনভাবে মারে যে সে কোমায় চলে যায়,কয়েকদিনের মধ্যেই মারা যান সেই পুলিশকর্মী।সেই মর্মান্তিক ঘটনার পরেও ৩১ ডিসেম্বরের হুল্লোর মাতলামো বন্ধ হয় নি,বন্ধ হয় নি মহিলাদের শ্লীলতাহানির ঘটনাও।এবারও একই অভিযোগ তুলে গড়ফা থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন গড়িয়া নেতাজিনগর অঞ্চলের এক দম্পতি।অভিযোগে তাঁরা বলেছেন রবিবার রাতে একটা পার্টিতে যাবার জন্য বাইপাস সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁরা গাড়িতে যাবার সময় একটা অন্য গাড়ি বার বার তাঁদের সমনে পথ আটকে দাঁড়িয়ে যেতে থাকে।একটা সময় সিগন্যালে গাড়ি থামলে ঐ মহিলা নিজের গাড়ি থেকে নেমে এসে সামনের গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসা করেন কেন তারা বার বার সামনে এসে তাঁদের পথ আটকাচ্ছেন,মহিলার স্বামী তখন তাঁদের গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে বসেছিলেন।সেই সময় অপরিচিত যুবক ঐ মহিলার হাত ধরে টানতে থাকে,গাড়ি ছেড়ে দেয় মহিলাকে টানতে টানতে চলন্ত গাড়ির সঙ্গে নিয়ে যেতে থাকে ঐ যুবক।মহিলা চিতকার করতে থাকেন,তাঁর শরীর ঝুলতে থাকা অবস্থায়,দেখে এলাকার কিছু অল্পবয়সী যুবক বাইক নিয়ে গাড়িটিকে ধাওয়া করতে থাকে,শেষ পর্যন্ত ঐ মহিলাকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে যায় মদ্যপ যুবকের দল।এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ঐ মহিলা।পুলিশ জানিয়েছে তদন্ত চলছে এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয় নি।প্রশ্ন উঠছে একের পর এক এরকম ঘটনা ঘটে যাবার পরেও প্রশাসন কেন এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না,কেন রাজ্য সরকার বিষয়টাকে উদ্বেগ জনক বলে বিবেচনা করছে না?সমস্যাকে সমস্যা বলে না মানলে সমাধানের সর্বাত্মক প্রয়াস শুরু হয় না,এক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে,রাজনীতির ঢামাঢোলে সমস্যাকে চাপা দিতে গিয়ে সমস্যাকে আর জটিল করে তোলা হচ্ছে।মহিলা নির্যাতন এ রাজ্যে তাই নৈমিত্তিক ব্যপার হয়ে দাঁড়িছে।

,