বিদেশে হোটেলের রুপোর চামচ চুরি করে জরিমানা দিয়ে গ্রেপ্তারি এড়ালেন মুখ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী সাংবাদিক

ইদানিং মুখ্যমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলেই তাঁর সফরসঙ্গী হন একঝাঁক সাংবাদিক।কলকাতার সাংবাদিক মহলে সকলেরই জানা এঁরা আদপে সাংবাদিকতার নামে সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষের একএকজন বাজনদার।প্রশ্নহীন আনুগত্যের বিনিময়তেই এঁরা বার বার সরকারী বদান্যতায় বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ বাগিয়ে নেয়।তা না হলে প্রত্যেকবার বিদেশ ভ্রমণে একই মুখ দেখা যেত না।সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর লন্ডন সফরে গেছিলেন এরকমই একঝাঁক সরকারি আনুগত্য লালিত সাংবাদ মাধ্যমের কর্মী।মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঘোরা ছাড়াও এঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হোটেলে খাবার খেতেও চলে যায়।মুখ্যমন্ত্রীকে এক শিল্পপতী তাঁর নাম করা হোটেলে খাবার আমন্ত্রন জানালে,সফরসঙ্গী তথাকথিত সাংবাদিকদের নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী সেখানে হাজির হন।খুব দামি পাত্রে খাবার পরিবেশন করা হয় সবাইকে।চামচ ও কাঁটাচামচ দেওয়া হয়,যার সবকটি রুপো দিয়ে তৈরি।জানা যাচ্ছে এই রুপোর চামচের লোভ সামলাতে পারেন নি কলকাতা থেকে যাওয়া মুখ্যমন্ত্রীর একান্ত অনুগত কিছু সাংবাদিক।তাঁরা সেই দামি চামচ ও কাঁটাচামচ পকেটে ঢুকিয়ে ফেলে।লালসায় অন্ধ হয়ে গিয়ে এইসব চোরের দল একেবারে ভুলে যায় যে ওরকম একটা নামী হোটেলে সিসিটিভির ক্যামেরা থাকে।আমন্ত্রিত অতিথি তাই হোটেল কর্তৃপক্ষ বিনয়ের সঙ্গে জানান যদি হোটেলের কোন জিনিস কারোর কাছে থাকে তাঁরা যেন তা দিয়ে দেন।এরপর বেশকয়েকজন তাঁদের চুরি করা চামচ ফেরত দেয়,কিন্তু আজকাল পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার দীপঙ্কর নন্দী রুপোর কাঁটা চামচ চুরি করে নিজের কাছে না রেখে তা অন্যের ব্যাগে ঢুকিয়ে দেয়।হোটেলের গেটে তাকে নিরাপত্তা রক্ষীরা আটকায় এবং জানায় তিনি যে চামচ চুরি করে অন্যের ব্যগে তা চালান করছেন তা সিসিটিভির ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।নিরাপত্তা রক্ষীরা দীপঙ্করবাবুকে পরিষ্কার জানান হয় তিনি এই চুরির দায় নিয়ে ৫০ পাউন্ড ফাইন দেবেন নয়তো তাঁকে জেলে পাঠানো হবে।শেষ পর্যন্ত ৫০ পাউন্ড জরিমানা দিয়ে ছাড়া পান আজকাল পত্রিকার এই চোর সাংবাদিক।প্রশ্ন হল যে বা যারা এভাবে দেশের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করে তাঁরা কেন কেন মুখ্যমন্ত্রীর এতো কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন?কথায় তো বলে সঙ্গ দেখে মানুষ চেনা যায়,তাহলে কি মুখ্যমন্ত্রীও..না বাবা সে কথা না বলাই ভাল,যেখানে অপ্রিয় প্রশ্ন করলেই মাওবাদী সন্ত্রাসীর তকমা জুটে যাচ্ছে সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর সততা নিয়ে প্রশ্ন করলে দিদির জামানায় করে কম্মে খানেওয়ালা ভাইরা আর আস্ত রাখবে না,তাই প্রশ্নটা উহ্য থাক।শুধু মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে বছর কয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরসঙ্গী হয়েছিল এমন এক ব্যক্তি যার নামে একাধিক প্রতারণার অভিযোগে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন,শেষে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ফেরার সময় তাকে কলকাতার এয়ারপোর্ট থেকেই কেন্দ্রীয় গোয়ান্দারা গ্রেপ্তার করেন।এসব ঘটনা শুধু রাজ্যের নয়,মুখ্যমন্ত্রীর ভাবমূর্তির পক্ষেও খুবই খারাপ,মুখ্যমন্ত্রী ভাববেন কী? (সূত্র–জনস্বার্থ বার্তা)

,