সুপ্রিম কোর্টে ৪বিচারপতির বিদ্রোহকে ধামাচাপা দিলেই আদালতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে কি?

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ৪ বিচারপতির বিদ্রোহ আপাতত ধামাচাপা পড়ে গেল। অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্ধৃত করে জাতীয় মিডিয়া জানাচ্ছে সবকিছু মিটমাট হয়ে গেছে। কিন্তু কীভাবে ? তা জানানোর দায় কোন পক্ষেরই নেই বলে মনে হয়। যবে থেকে প্রধানবিচারপতির বিরুদ্ধে মামলা বন্টনের ক্ষেত্রে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে  সর্বোচ্চ আদালতের ৪ সিনিয়র বিচারপতি সাংবাদিক বৈঠক করেন তার পর থেকে আইনজীবীদের একটা বড় অংশে ও সরকারের তরফ রব তোলা হল বিষয়টি ঠিক হয়নি। বিচারপতিরা নিজেরদের মধ্যে মিটমাট করে নেওয়া উচিত। আর কয়েকদিনের মধ্যেই সব স্বাভাবিক হয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু একি লজেন্স চেয়ে বাচ্চা ছেলের বায়না যে লজেন্স দিয়ে তা মিটিয়ে নেওয়া যায়!  আসলে ওই ৪ বিচরপতি সুপ্রিম কোর্টে বিচার ব্যবস্থায় যে রাজনৈতিক স্বজনপোষণ চলছে সেই কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। বিষয়টি সবারই জানা। ধামাচাপা দিলে প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে কি?

কী বলেছিলেন ৪ বিচারপতিঃ

  দেশে গণতন্ত্র প্রশ্নের মুখে। সাংবাদিক সম্মেলনে নজিরবিহীনভাবে এই কথা জানালেন সুপ্রিম কোর্টের ৪জন সিনিয়ার বিচারপতি।তাদের অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের কাজের ধরনের বিরুদ্ধে। প্রধান বিচারপতিকে লেখে ২ মাসের আগের এক চিঠিকে এদিন সামনে এনেছেন তারা। সেই চিঠিতে মামলা শুনানির জন্য বেঞ্চ  নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে  প্রধান বিচারপতির  বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। ভুয়ো সংঘর্ষে সোরাবুদ্দিন হত্যা মামলার  শুনানি চলছিল সিবিআই আদালতে। বিচারপতির লোয়িয়ার এজলাসে । বিচারপতির লোয়িয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। তার পর নতুন বিচারপতি নিয়োগ হলে খালাস পেয়ে যান মামলায় অভিযুক্ত বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দাখিল করা হয়। সুপ্রিম কোর্টে সেই মামলা  অপেক্ষাকৃত জনিয়ার বিচারপতিদের এজলাসে  শুনানির জন্য ধার্য করা হয়েছে।এখানেই শেষ নয় আইনজীবী প্রশান্তভূষণের অভিযোগ বেসরকারি মেডিকেল কলেজের একটি ঘুষের মামলায় প্রধানবিচারপতির নাম উঠে আসার পরও সেই মামলার শুনানির জন্য যেভাবে বেঞ্চ নির্দিষ্ট করা হয়েছে তাতেও দীপক মিশ্রের পক্ষপাত স্পষ্ট।

এদেশে বিচার ব্যবস্থা নিয়ে মুখ খুললেই আদালত অবমাননার দায় পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কিন্তু একটু চোখ খুললেই দেখে যায় কীভাবে প্রভাবশালীরা আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে যা খুশি তাই করে চলেছেন। বড় বড় দুর্নীতির মামলা থেকে শুরু করে শিখ হত্যা বা গুজরাট দাঙ্গা  বা বাবরি মসজিদ ধ্বংসে একজন রাঘব বোয়ালেরও সাজা হয় না। সু্প্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করলেও সাহারার সুব্রত রায়ের জামিন খারিজ হয় না। অথচ ছত্রধর মাহাতোরা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেও জামিন পান না। ৯০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী দিল্লির অধ্যাপক সাইবাবাকে মাওবাদী তকমা দিয়ে তাকে সাজা শোনায় আদালত। তাই লোকে এমনি এমনি বলে না যে পয়সা থাকলে আইন -আদালতে পকেটে।