রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস ও বাস্তবতায় বিস্তর ফারাক

মাত্র দিন কয়েক আগে রাজ্যের চতুর্থ বানিজ্য সম্মেলনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড় মুখ করে ঘোষণা করেছিলেন এ রাজ্যই আগামীদেনে শিল্প বানিজ্যের পক্ষে যথার্থ উপযুক্ত জায়গা হয়ে উঠতে চলেছে,কারণ শিল্পোদ্যোগীদের কোনরকম বিরক্ত না করে শান্তিতে যাতে শিল্প বিনিয়োগ হয় তার যাবতীয় ব্যবস্থা নাকি রাজ্য সরকার করে ফেলেছে।রাজনীতির রঙ না দেখে শক্ত হাতে রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছিলেন।তাঁর এই ঘোষণার একদিনের মধ্যেই দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বাসন্তিতে শাসক তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ বুঝিয়ে দিল এ রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এখনও অনেক দেরি।বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দফায় দফায় শাসক দলের গোষ্ঠী লড়াইতে উত্তাল হয়ে ওঠে বাসন্তি,নির্বিচার গুলি ও বোমায় সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন এলাকার মানুষজন।গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় এক স্কুল পড়ুয়া,মৃত্যু হয় আর এক ব্যক্তির।সংঘর্ষ থামাতে এসে দুষ্কৃতীদের গুলিতে বিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এক পুলিশকর্মীও।যে রাজ্যে ক্ষমতার রাশ ধরে রাখতে শাসক দলেরই দুই গোষ্ঠী এভাবে প্রকাশ্যে পরস্পর মুখোমুখি লড়াইতে জড়িয়ে পড়তে পারে আর তার জেরে নিরপরাধ স্কুল পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু হয়,সে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের আর যাই হোক আইনের শাসন নিয়ে কোন গর্বিত উচ্চারণ মানায় না।শুধু গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনাই নয় রাজ্য জুরে যে ভাবে মহিলা ও শিশুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে তাতে বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে রাজ্যে আইনের শাসন ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।মুখ্যমন্ত্রী আমন্ত্রীত শিল্পপতিদের সামনে যতোই আশ্বাস দিন না কেন যে কোনরকম রাজনৈতিক রঙ না দেখে পুলিশ শিল্প পরিবেশ গড়ে তুলতে ব্যবস্থা নেবেন,বাস্তবে যে কোন থানার বড়বাবু লোকাল শাসক দলের নেতাদের বাড়ির চাকরের চেয়ে বেশী ক্ষমতা যে ব্যবহার করতে পারবেন না,তা জানেন প্রতিটি এলাকার শাসক দলের সব প্রকারের নেতারাই।আর সেই জন্যই তো মুখ্যমন্ত্রীর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার একদিন পড়েই শাসক দলের লোকাল গুন্ডার দল নিজেদের কাছে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা নিয়ে রাস্তায় নেমে লড়াই করতে একটুও ভয় পায় নি,ভয় পায়নি সাধারণ মানুষের জীবনহানি করতেও।আমরা শুধু মুখ্যমন্ত্রীকে একটা কথাই মনে করিয়ে দিতে চাইবো,যদি ভেবে থাকেন বাস্তবতার সঙ্গে না মিললেও শুধু মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েই শিল্প বিনিয়োগ করিয়ে ফেলতে পারবেন তা হলে ভুল ভেবেছেন।যাঁরা শিল্প বিনিয়োগ করবেন তাঁরা কিন্তু কেউ বোকা নন,তাঁরা বাস্তবতা যাচাই করে নিতে জানেন,আপনার আমন্ত্রীত অতিথী হয়ে পাশে বসে আপনার সঙ্গে যতোই মিষ্টি মিষ্টি কথা বলুন না কেন শেষ বিচারে এঁরা সকলেই পাকা ব্যবসায়ী,সেই জন্যই বিনিয়োগ প্রস্তাব আর বাস্তব বিনিয়োগে ফারাক তৈরি হয়েছে গত কয়েক বছরে।এই ফারাক দুর করতে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আপনাকেও প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতায় ফারাক দূর করতে সচেষ্ট হতে হবে।বাসন্তিতে মৃত স্কুল পড়ুয়া ও এক সাধারণ ব্যক্তির পরিবারের কাছে গিয়ে নত মস্তকে স্বীকার করতে হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে দায়িত্ব আপনাকে সাধারণ জনগণ দিয়েছিলেন তা পালনে আপনি ব্যর্থ হয়েছেন,এর জন্য আপনি উদ্বিগ্ন লজ্জিত।একমাত্র সেই উদ্বেগ ও লজ্জাই পারে এ রাজ্যে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা তৈরি করতে।তবে মমতাদের মতো ক্ষমতাপিপাসু রাজনীতিকরা কী কোন দিন সেই লজ্জা ও উদ্বেগের উদারতাকে স্পর্শ করার উচ্চতায় নিজেদের নিয়ে যেতে পারবেন?বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই মিথ্যাচারই যাদের রাজনৈতিক দর্শন তাদের কাছে গণতন্ত্রের মাহাত্ম্য প্রত্যাশা করাটাই তো মুর্খামি।তাই কথা ও কাজের ফারাক চলতেই থাকে চলতেই থাকবে….