বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্খাকে উসকে দেওয়া সুপ্রিয়া দেবী প্রয়াত

দাদা আমি কিন্তু বাঁচতে চেয়েছিলাম..বাঁচতে চেয়েছিলাম,দাদা আমি বাঁচবো আমি বাঁচবো…ঋত্মিক ঘটকের সেই মেঘে ঢাকা তারা ছবিতে তাঁর আবেগ বিহ্বল সংলাপ ধাক্কা দিয়েছিল আপমর বাঙালির হৃদমাঝারে,বেঁচে থাকার আকাঙ্খা উথলে উঠেছিল এদেশে উদ্বাস্তু হয়ে চলে আসা দারিদ্রপীড়িত পরিবারগুলির মধ্যেও।আর সিনেমাকে মধ্যস্থ করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির নিম্নবিত্ত পরিবারের বড়দিদি,যিনি তাঁর পরিবারের  সবাইকে টিঁকিয়ে রাখতে জীবন বাজি ধরে,তারপর নিজের জীবনের শেষ ঘন্টা বেজে যাওয়ার পর অনুভব করেন বেঁচে থাকার তীব্র আকুলতা,সেই আকুলতা নাড়িয়ে দেয় বাঙালির হৃদয় মনকে।অভিনয়ে বাঙালির আবেগকে আমুল কাঁপিয়ে দিতে পেরেছিলেন বলেই তো তিনি বাঙলার মুখ হয়ে উঠেছিলেন,সুপ্রিয়া চৌধুরী তাই সুপ্রিয়া দেবী হয়ে ওঠার পরেও ছিলেন মূলত ঋত্মিক ঘটকের আবিষ্কার।মেঘে ঢাকা তারা,কোমল গান্ধার পেরিয়ে একের পর এক ছবিতে ঋত্মিক ঘটক অনন্য অভিনেত্রী সুপ্রিয়া চৌধুরীকে তুলে ধরেন।বানিজ্য ধারার ছবিতেও সাবলীল অভিনয় করে গেছেন সুপ্রিয়া দেবী,উত্তম কুমারের সঙ্গে তাঁর জুটিও সাফল্য পেয়েছিল।শুক্রবার সকালে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে,৮৫ বছর বয়সী সুপ্রিয়া দেবী মারা যাওয়ার সময় তাঁর বেঁচে থাকার আকুলতা হয়েছিল কিনা জানা না গেলেও,তিনি যে অনেকের মধ্যে বেঁচে থাকার আকাঙ্খা উসকে দিতে পেরেছিলেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।সুপ্রিয়া দেবীর মৃত্যু আদপে একটা যুগের অবসান ঘটাল,বাঙলা ছবির সেই স্বর্ণ যুগের অবসান বাঙালিকে নস্টালজিক ও বেদনা ভারাক্রান্ত করে তুলবে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।