মঙ্গলে আছি, জল থেকে বাস তোলার উপযুক্ত ক্রেন অমিল!

ভোর ৬টা নাগাদ নদী বা খালে পড়ে গেল একটি বাস। কলকাতা থেকে ২০০ -২৫০ কিমি দূরে মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদে। অথচ উদ্ধার করতে গিয়ে নাজেহাল প্রশাসন। বাস তুলতে গিয়ে মাঝে মধ্যেই ছিড়ে গেল ক্রেনে আটকানো দড়ি। অবশেষে সন্ধে নাগাদ জল থেকে কিছুটা উপরে ওঠানো গেল বাস। উদ্ধার করা হল বাসের মধ্যে থাকা বেশ কিছু মৃতদেহ। নদী বা খালে থাকা অন্যরা এখনও নিখোঁজ। জানা যাচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলায় নাকি বিপর্যয় মোকাবিলার কোন পরিকাঠামো নেই। মুখ্যমন্ত্রী শোকপ্রকাশ করে বলেছেন বাসতো তারা চালাচ্ছিলেন না বাস চালক তা চালাচ্ছিলেন। তারই অসতর্কতার জন্য হয়তো ঘটে থাকবে এই দুর্ঘটনা। বাস যে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের আমলারা চালান না সে সবাই জানে( এটা অন্য কথা NBSTC এর লোগো মারা এই বাসের চালানোর দায় সরকারের ঘাড়েই এসে পড়ে ) কলকাতা থেকে লোকজন এনে চালান হল উদ্ধার কাজ। প্রায় শুনি ISRO  মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠাচ্ছে। মঙ্গলগ্রহে নাকি অভিযান হচ্ছে। দেশে বুলেট ট্রেন ছুটবে। অথচ নদীতে পড়ে যাওয়া বাস তোলার উপযুক্ত পরিকাঠামো থাকে না এদেশের একটি জেলায়।এক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদ কোন ব্যতিক্রম ঘটনা নয়। কয়েকদিন আগে রাজস্থানেও এমনই হয়েছিল। তাছাড়া রেলদুর্ঘটনা তো লেগেই আছে। এদেশে মানুষের প্রাণের দাম শুধু মাত্র নেতাদের ভাষণে থাকে বাস্তবে আম জনতা বাঁচল না মরল তা নিয়ে বোধহয় তাদের খুব একটা মাথা ব্যথা নেই। আর যদি থাকতো তাহলে দিল্লিতে বেআইনি বাজি কারখানা আগুনে পুড়ে ১৭জন শ্রমিকের মৃত্যুর পরও তেমন কোন পদক্ষেপের কথা শোনা যায়নি। মুম্বইতে রেস্তোরাঁয় আগুন লাগার পরও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভা তেমন কিছু করেছে বলে জানা যায়নি। আসলে এই গুলোকে দুর্ঘটনা বলে চালানো হলেও এর অধিকাংশটাই প্রশাসনিক অব্যবস্থা ও নৈরাজ্যের ফসল। ‘প্রশাসনিক হত্যা’ বললেও ভুল বলা হবে না।