মুর্শিদাবাদে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩

মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩। বুধবাররও সকালে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার জল থেকে উদ্ধার করা হয় আরো ৫টি মৃতদেহ। আরো মৃতদেহের খোঁজ চলছে এখনও। সোমবার সকালে নদিয়ার করিমপুর থেকে মালদহ যাচ্ছিল বাসটি সেতু ভেঙে খালে গিয়ে পড়ল,স্থানীয় মানুষজন তা দেখে চমকে উঠে প্রশাসনকে খবর দিল নিজেরা এগিয়ে এল উদ্ধারকাজে।কিন্তু ক্রেন আনতে সরকারি লোকজনদের উদ্ধারকাজ শুরু করতে করতে কেটে গেল কয়েক ঘন্টা। আর তাতেই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল সাধারণ মানুষজনদের তাঁরা চড়াও হলেন প্রশাসনের উপর,ভাঙল পুলিশের গাড়ি,আগুন ধরলো পুলিশের গাড়িতে,পাল্টা লাঠি চালাল পুলিশও। সোমবার সকালে মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদে সেতু ভেঙে ৫৬জন যাত্রী নিয়ে বাস যখন খালে গিয়ে পড়ে আর তার পরেই একের পর এক মৃতদেহ ভেসে উঠতে থাকে,ক্রমশ পরিষ্কার হয়ে যেতে থাকে ৫৬ জনের মধ্যে কয়েকজন বরাতজোরে বাঁচলেও অধিকাংশেরই জীবন ফিরে পাবার কোন সম্ভাবনা নেই।পরিবহন মন্ত্রী কোলকাতা থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা টিম নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যান দুপুরের পর। হেলিপ্টারে উড়ে যান মুখ্যমন্ত্রীও। ভোরে দুর্ঘটনা অথচ ক্রেন দিয়ে বাসটিকে জল থেকে তুলে আনতে লেগে গেল সন্ধে। তাও পুরোপুরি নয়। জলের থেকে কিছুটা উপরে তুলে ঝুলম্ত বাসের ‘জরুরি’ কাঁচ ভেঙে উদ্ধার করা হয় একের পর এক মৃতদেহ। রাত ৮টা নাগাদ বাসটিকে  ক্রেন দিয়ে ব্রিজের উপরে তোলা সম্ভব হয়। এর আগে ৬ জনকে কোনক্রমে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রশ্ন হল কেন জেলাতে কোন বিপর্যয় মোকাবিলা টিম মজুত থাকে না? কেন তাদের কোলকাতা থেকে নিয়ে যেতে হয়?যে সেতু ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটেছে তার টোল ট্যাক্স নেওয়া হলেও তার তদারকি করতে পুলিশ প্রহরা থাকে না কেন,কেন সেতুর উপর দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাবার সময় চালকদের সতর্কতা মানতে বাধ্য করা হয় না?অভিযোগ উঠছে চালক মোবাইলে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালানোর ফলেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে,তাহলে প্রশাসনিক তদারকিতে ঘাটতি আছে সেটাই তো পরিষ্কার হচ্ছে।আমরা জানিনা জেলায় জেলায় পরিবহন নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের কোন নীতি বা পরিকল্পনা আদৌ আছে কিনা?সেভ ড্রাইভ,সেভ লাইফ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি সহ হোর্ডিং দেওয়ার চেয়ে অনেক দরকারি জেলায় জেলায় বিপর্যয় নিরাপত্তা পরিকাঠামো গড়ে তোলা,বিপজ্জনক সেতু গুলির উপর দিয়ে যান চলাচলের সময় প্রশাসনিক তদারকিকে আর জোরদার করা,চালকদের আর প্রশিক্ষিত ও দায়িত্বসচেতনাতার শিক্ষা দেওয়া।তবে শুধু মন্ত্রী আমলা নয়,সাধারণ মানুষের জীবনও যে অমুল্য সে বোধ এ দেশের প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের আদৌ আছে কিনা তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ থাকছে,যে কোন দুর্ঘটনার পর যে ভাবে আর্থিক মূল্য ধরে সাধারণ মানুষের জীবনের মুল্য চুকিয়ে দিয়ে মন্ত্রী আমলারা খুশি খুশি মুখভঙ্গি করে ক্যামেরার সামনে পোজ দেন তাতে মনে হওয়া অসম্ভব নয় যে সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য কিছু টাকা ছাড়া এঁদের কাছে বেশী কিছু নয়। সোমবারের দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছেন। সরকার আহত ও মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেবে। একটা তদন্তও করা হবে। কিন্তু এতবড় ব্যর্থতার দায় কি কেউ নেবে? আমরা কি আপেক্ষা করবো আরেকটি দুর্ঘটনার জন্য। কয়েকদিন আগে নাগেরবাজারের কাছে গোরাবাজার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সেখানেও দমকলের গাড়ি সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আসলে প্রতিটি দুর্ঘটনার পরও প্রশাসনের টনক নড়ে না। কারণ যারা মারা  যান তাদের প্রাণের মূল্য নেতা বা আমলাদের কাছে থাকে না।