অ্যাক্সিডেন্টই এখন স্বাভাবিক! যান নিয়ন্ত্রণ মানে শুধুই ফাইন!

এশহরে বা জেলায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাড়িতে ফিরে আসাটাই এখন ‘অ্যাক্সিডেন্ট’। রোজই কোথাও না কোথাও একাধিক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছেন। দুর্ঘটনায় যেখানে মৃত্যু হচ্ছে না তা আমরা জানতেও পারছি না। শনিবার চিংড়িঘাটায় বাসে চাপা পড়ে ২ ছাত্রের মৃত্যুর পর রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। বাসে আগুন, জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিসের লাঠি চার্জ। অবরুদ্ধ পূর্বকলকাতার একটা বিস্তীর্ণ অঞ্চল। পুলিস আগে লাঠি চালিয়েছে না জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিসকে ইট ছুড়েছে, বাসে আগুন দিয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক চলবে। তবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় জনতা ক্ষিপ্ত না হলে একটা পথ দুর্ঘটনা এইভাবে জানাজানি হত না। প্রভাবিত হত না জনজীবন। শহরে যানের তুলনায় রাস্তা কম একথা সত্যি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তোলা ও ফাইন আদায়ই কি রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক সার্জেন্টরা প্রধান কাজ?  কেন বাস দিনে একবার ফাইন দিলে সেইদিনের মত সে যা খুশি তাই করতে পারে? কেন যেখানে সেখানে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হয়? কেন ফাঁকা রাস্তাতেও একটি নির্দিষ্ট গতি রেখে বাস চলে না? কেন যাত্রী নামানোর সময় তাড়াহুড়ো করলে বাস কন্ডাক্টরকে শাস্তি দেওয়া হয় না? কেন সিগন্যাল ভাঙলে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তত বাজেয়াপ্ত করা হয় না? কেন বেসরকারি বাসের মধ্যে রেষারেষি রুখতে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না? কেন অটোদের লাগাম পড়ানো যাচ্ছে না? কেন জেলায় ট্রেকার ঝুলে যাত্রীরা যাতায়ত করছেন?  এই সব প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে শুধুমাত্র সেভ ড্রাইভ- সেভ লাইফের প্রচারের মাধ্যমে বাজিমাত্ করতে চাইবো  ততদিন আমরা আরেকটি দুর্ঘটনার জন্য অপেক্ষা করবো। মাঝে মধ্যে ক্ষিপ্ত জনতার দৌলতে জনজীবন সাময়িক বিপর্যস্ত হবে মাত্র।