মুখ্যমন্ত্রীর বিরাগভাজন হলেন কেন ভারতী ঘোষ!

চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়-আমারা জানতাম,কিন্তু তা বলে এত দ্রুত কারোর সময় বদলে যেতে দেখে কেমন যেন ধন্দ লাগে।হাঁ ভারতী ঘোষের কথা ভেবেই এই ধন্দ,এই তো মাত্র কিছুদিন আগে পর্যন্ত  দুই মেদিনীপুরে একচ্ছত্র কর্তৃত্ব করে গেছেন তিনি,সরকারী উর্দি গায়ে চাপিয়েও কোন নীতি নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে জঙ্গলমহলের মানুষের কাছে মা বলে পরিচিত করাতে কোন কুন্ঠা বোধ করতেন না।মুখ্যমন্ত্রীকে নিজেও  তাঁর মা বলে পরিচয় দিতেন।বিরোধীদের অভিযোগ ছিল গোটা মেদিনীপুর জেলা জুরে শাসক দলের হয়ে যাবতীয় কাজকর্ম তিনিই দেখতেন,তাঁর দপ্তরটাই হয়ে উঠেছিল তৃণমূলের কার্যালয়।যে কোন নির্বাচনে শাসক দলের প্রতি  তাঁর পক্ষপা তিত্ব নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠেছে,আর শাসক তৃণমূল ও তাদের সুপ্রিমো মমতা ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগকে  উপেক্ষা করে,তাঁর ক্ষমতাকে লাগামহীন করে গেছেন।জেলায় বিরোধী নেতা ও কর্মীদের নানা মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো ও গ্রেপ্তার করার অভিযোগও আছে ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে,কিন্তু যতোদিন মমতার আস্থাভাজন ছিলেন এই আইপিএস অফিসার ততদিন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা কোন অভিযোগই গুরুত্ব পায় নি।আচমকাই সরকার তথা মমতার আস্থা কেন টলে গেল এই একান্ত অনুগত পুলিশ অফিসারের উপর থেকে তা একটা বড় প্রশ্ন তো বটেই,কী সেই কারণ যা ভারতী ঘোষের মাকে তাঁর কাছ থেকে সরিয়ে নিল?কেন আচমকা ভারতী ঘেষকে জেলা পুলিশের সুপারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হল,কেনই বা ভারতী ঘোষ চাকরী ছেড়ে দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিলেন?এখন সরকার ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে,বলা হচ্ছে তিনি নাকি তোলাবাজী করে সম্পত্তি করেছেন,এতোদিন পর সরকার তা জানলো বুঝি!ভারতী ঘোষের সঙ্গে সরকারের দুরত্ব তৈরি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন-ধন্দ থাকছে,কৌতুহলও থাকছে,তবে যেটা বোঝা যাচ্ছে তা হল এ দেশের আইন কানুন সবকিছুই আসলে ক্ষমতার অভিমুখ ধরেই চলে,আইন কানুনকে ক্ষমতাবানরা নিজেদের মতো করে ব্যবহার করেন,যাঁর হাতে ক্ষমতা তার মতো করে চলবে আইন।ভারতী ঘোষ ক্ষমতার বৃত্তের মধ্যে যতোদিন ছিলেন ততোদিন নিজেন মতো করে আইনকে ব্যবহার করে গেছেন,এখন ক্ষমতার বৃত্ত থেকে তাঁকে ছেঁটে ফেলার পর সেই আইনকেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চাইছেন একদা তাঁর মা মমতা।মমতার অনুগত হয়ে যাঁরা তাঁর ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছেন,তাদের অনেকেরই মমতার রোষানলে পড়তে হয়েছে পরবর্তি সময়ে,তার উদাহরণও একেবারে কম নয়,ফারজানা আলম,কুণাল ঘোষ,মুকুল রায়,ভারতী ঘোষ তালিকা বাড়বে নিশ্চয়….

,