দিল্লির তরুণ হত্যার প্রেক্ষিতে সাম্প্রদায়িক উস্কানি সোশ্যাল মিডিয়ায়

একটি মুসলমী মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে মেয়েটির পরিবার হত্যা করেছে দিল্লির তরুণ অঙ্কিত যশোয়ালকে। পারিবারিক সম্মাণরক্ষার অজুহাতে এই ঘৃণ্য অপরাধের নিন্দা হওয়া যেমন জরুরি তেমনই জরুরি এই হত্যা নিয়ে ধর্মীয় ভাবাবেগকে সুরসুরি দেওয়ার বিজেপির কৌশলের বিরুদ্ধে। অন্তত অঙ্কিতের বাবা মনে করেন তার ছেলের মৃত্যু মনিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়া উচিত নয়। মিডিয়ার একাংশের রিপোর্ট অনুযায়ী অঙ্কিতের খুন নিয়ে  মিডিয়া যেভাবে সংবাদ পরিবেশন করছে তাতে তিনি ক্ষুব্ধ।এদেশে সম্মাণরক্ষার অজুহাতে ভিন্ন জাত -ধর্মের প্রনয়ী যুগলকে হত্যা নতুন নয়। কখনও খাপ পঞ্চায়েতের নির্দেশে বিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় তো কখন বাহুবলীর হাত থেকে বাদ যায় না ias এর ছেলেও। এটা দেশের সামন্তত্রান্তিক কাঠামোর ফল। এর সঙ্গে সবক্ষেত্রে যে রাজনৈতিক দলের মদত থাকে তা নয়।  কেন অঙ্কিতের মৃত্যু বা কাসগঞ্জে এক তরুণ হিন্দুর মৃত্যুর পর ও নাগরিক সমাজ মোমবাতি মিছিল করছে না? এই যুক্তি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন  একদল ছদ্মবেশী হিন্দু বুদ্ধিজীবী। তাদের দাবি আকলাখে মৃত্যুতে সরকারি ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ৫০ লক্ষ টাকা। অথচ কাসগঞ্জে তরুণ চন্দন গুপ্তের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ মাত্র ২০ লক্ষ টাকা। আসলে তারা একটা বিষয় গুলিয়ে দিতে চাইছে তা হল আকলাখের মৃত্যুর সঙ্গে শাসক দলের উস্কানির ফলেই সংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবেই তাকে হত্যা করা হয়। অন্যদিকে কাসগঞ্জের তরুণের মৃত্যুর হয়েছে abvp এর মিছিলকে ঘিরে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী সেখানে থেকে উস্কানিমূলক শ্লোগানও দেওয়া হচ্ছিল। ফলে দুটো বিষয় এক যে নয় তা সোশ্যাল মিডিয়াতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচারকারীরা জানেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন অনেকে যারা নিজেদের প্রগতিশীল বলে দাবি করেন। ফলে দেশজুড়ে করপোরেট লুন্ঠনকে জারি রাখতে শাসকদল সাম্প্রদায়িক বিষ বাষ্পকে প্রতিদিন ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে সকলের। সেটা না বুঝতে চাইলে আখেরে লাভ শাসকদেরই।