মোদির ভাষণ মনে করিয়ে দেয় বিধানসভায় মমতার ভাষণকে

যুক্তি যেখানে অসাড়, আবেগের সুরসুরি সেখান থেকেই শুরু। আর এখানেই বেশ মিল দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকদিন আগে বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের ধন্যবাদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেছিলেন বাংলার উন্নতি দেখতে পারে না বিরোধীরা। আর বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ দিতে গিয়ে মোদি বলেন বিজেপির বিরোধিতা করতে গিয়ে নাকি দেশের বিরোধিতা করে ফেলছে বিরোধী দলগুলি। বাজেট পর্বের সরকার পক্ষের ভাষণে দেশভাগের জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করা থেকে শুরু করে প্যাটেলকে প্রধানমন্ত্রী না হতে দেওয়া সব কিছু নিয়েই কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেছেন মোদি। মমতা যেমন মাঝে মধ্যেই বলেন তিনি দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন বলে অনেকে সহ্য করতে পারে না, ঠিক সেরকমই (তবে ঢংটা একটু আলাদা) নরেন্দ্র মোদি এদিন কংগ্রেসের বংশোবাদকে কটাক্ষ করতে গিয়ে ফের বিদ্রুপের ছলে বলেছেন তাঁর প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার বসাকে গান্ধী পরিবার হজম করতে পারছে না। মূল্যবৃদ্ধি রুখতে আবাস যোজনায় ঋণের সুদে ছাড়ের কথা বলেছেন মোদি। তবে কেন টম্যাটো ১০০ টাকা কেজি ও পেঁয়াজের দাম মধ্যবিত্তের চোখে জব বের করে দিয়েছে তার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি তিনি। কৃষক আত্মহত্যার বিষয় আলোচনা করার প্রয়োজন মনে না করলেও কীকরে বাঁশ চাষ করে কৃষকদের আয় বা়ড়বে সেই দূরদর্শীতার কথা শুনিয়েছেন এদিন মোদি। বাজেট বা সরকার পক্ষের ভাষণে পরিসংখ্যানের ছলচাতুরি নতুন নয় তবে প্রসঙ্গান্তরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ একমাত্র মমতার এবারের বাজেট পর্বের ভাষণকেই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল।