অটোচালকরাও মহিলা চরিত্রের সার্টিফিকেট দিচ্ছেন!

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন এ রাজ্যেই মহিলারা সবচেয়ে বেশী নিরাপদ।আমরা বারবার নানা তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়েদিয়েছি মুখ্যমন্ত্রীর দাবি সঠিক নয়,বরং এ রাজ্যে নানা ঘটনা দেখিয়ে দেয় মহিলাদের উপর নির্যাতন বাড়ছে।বৃহস্পতিবার যে ঘটনা ঘটল তাতে আবার প্রমাণ হোল রাজ্য জুড়ে মহিলাদের প্রতি অবজ্ঞা ও অসম্মান করার প্রবণতা বেড়েই চলেছে।এদিনই জেলার এক জায়গায় এক গৃহবধূকে কু প্রস্তাব উপেক্ষা করার শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যা করে,মূল ধারার সব মিডিয়াতে খবরটা সম্প্রচারিত হয়েছে।আবার এদিনই খোদ কোলকাতার টালিগঞ্জ এলাকায় এক মহিলাকে অটোচালকদের নিগ্রহ সহ্য করতে হয়েছে।জানা যাচ্ছে ঐ মহিলা অটোর সামনের সিটে বসে চালককে একটু সরে বসতে বলেন,সেই মহিলা অটোচালককে বলেন তাঁর বসতে অসুবিধা হচ্ছে।এতে অটোচালক তাঁকে বলেন যেতে হলে যেমন ভাবে চালক বলবেন তেমন ভাবেই যেতে হবে,মহিলা প্রতিবাদ করেন,শুরু হয় বচসা।এর পর অন্যান্য অটোচালকরা এসে মহিলার হাত ধরে অটো থেকে নামিয়ে দেন তাঁকে চড় ঘুসি মারতে থাকেন বলে মহিলার অভিযোগ।চুড়ান্ত নির্যাতনের শিকার হয়ে পুলিশে অভিযোগ করেন মহিলা,পুলিশ অভিযুক্ত অটোচালককে গ্রেপ্তার করলে টালিগঞ্জ গড়িয়া এলাকায় অটো বন্ধ করে দেওয়া হয়।চূড়ান্ত ভোগান্তির মধ্যে পড়েন নিত্য যাত্রীরা।অটোচালকদের দাবি অভিযুক্ত অটোচালককে না ছাড়লে তারা রুটে অটো চালাবেন না।এই অটোচালকরা আর জানাচ্ছেন ঐ মহিলার চরিত্র ভাল নয়,তাঁর কথায় কেন একজন অটোচালককে গ্রেপ্তার করা হবে?কোন রাখঢাক করে নয় একেবারে টিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে অটো চালকরা বলছেন,একজন চরিত্রহীন মহিলার অভিযোগের কোন দাম থাকতে পারে না।রাস্তায় বেরুতে হয় যাঁদের তারা জানেন অনেক সময় মহিলারা ভুল বুঝে কারোর কারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ফেলেন,এক্ষেত্রেও ঐ মহিলা অটোচালকের বিরুদ্ধে ভুল বুঝে আপত্তি করেছিলেনকিনা তা নিয়ে আমরা কোন মন্তব্য করছি না,কিন্তু যে ভাবে সকলের সামনে ঐ মহিলাকে একাধিক অটোচালক অটো থেকে নামিয়ে হেনস্তা করেছে তার কোন যুক্তি থাকতে পারে?যুক্তি একটাই এই সব অটো চালকরা শাসক দলের নেতাদের মদতপুষ্ট,সেই মদতেই এরা এলাকায় এলাকায় মস্তানি আর লুম্পেনগিরি করে বেড়ায়।অটো বন্ধ করে দেওয়ার স্পর্ধা এরা কোথা থেকে পায়,কেন এরকম বেআইনি কাজের জন্য এদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না,কেন সবকটাকে গারদে পোরা হবে না?হবে না কারণ এরাই শাসক দলের সম্পদ,এদের দিয়ে ভোট করানো হয়,ছাপ্পা দেওয়া হয়,এদের দিয়েই এলাকার দখলদারি বজায় রাখা হয়।তাই তো এ রাজ্যে শাসক বদলের সঙ্গে সঙ্গে সব অটোর মাথায় লাল ঝান্ডা সরে গিয়ে তেরঙ্গা ঝান্ডা উড়তে দেখা যায়।গণতন্ত্রের নামে এদের দিয়েই গুন্ডাতন্ত্র আর দলতন্ত্রের ভিতকে শক্ত করা হয়।আর সেই জন্যই  তো এইসব অটোচালকদের গলায় শোনা যায় হুবাহু রাজ্যের মান্যবর মন্ত্রী সাংসদের কথার প্রতিধ্বনি,মনে করে দেখুন পার্কস্ট্রিটের ধর্ষণের ঘটনার পর সেই সময়কার মন্ত্রী মদোন মিত্র থেকে সাংসদ কাকলী ঘোষদস্তিদার ধর্ষিতার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি,আর নাট্যসংস্কৃতির প্রগতিপ্রন্থী ব্যক্তিত্ব অর্পিতা ঘোষ তিনি তো আর সরেস ভঙ্গিতে ধর্ষণের পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে ভাবতে বলেছিলেন।সেই ধারাবাহিকতায় এখন অটোচালকরা মহিলাদের চরিত্রের সার্টিফেকেট দেবেন,এতে আর আশ্চর্য কী! আসুন আমরা সবাই মেনে নিই এই হোল মহিলাদের সবচেয়ে নিরাপদে থাকা সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত!!!

,