ডায়েরিয়া আতঙ্কে মেয়রের বক্তব্যে ‘গণশত্রু’ র মিল দেখছেন অনেকে!

গত শুক্রবার থেকে কলকাতা পুরসভার আটটি ওয়ার্ডের বড় অংশে পেটের রোগের প্রকোপ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে।যাদবপুর.বাঘাযতীন,কসবা,এইসব এলাকা থেকে বহু মানুষ ডায়েডিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।পুরসভা বিষয়টির উপর নজরদারি করছে,এলাকা থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে,প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়ার পর কলকাতা পুরসভার মেয়র জানিয়ে দিয়েছেন পুরসভার দেওয়া জলে কোন জীবাণু পাওয়া যায়নি।এখানেই প্রশ্ন ওঠে মানুষকে আশ্বস্ত করা মানে কী শুধু নিজেদের দায় ঝেড়ে ফেলা,এতগুলো মানুষ ষে আতঙ্ক নিয়ে দিনযাপন করছেন,তাঁদের পরিবারের আত্মীয় রোগের প্রকোপে পড়েছে,তাদের কাছে পুরসভার জলে কোন ক্ষতি হচ্ছেনা বলে দিলেই বুঝি পুরসভার সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়?এই মূহুর্তেতো সবচেয়ে বেশি দরকার আক্রান্ত-আতঙ্কগ্রস্ত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে চিকিতসার যাবতীয় ব্যবস্থা করা,যুদ্ধকালীন দ্রুততায় এলাকার হাসপাতালগুলোতে এই রোগ মোকাবিলার যাবতীয় পরিকাঠামো পৌঁছে দেওয়া,সেই কাজে জোর দিতে তো দেখা যাচ্ছেনা পুরসভার মেয়র ও তাঁর পারিষদদের।,মানুষ যখন আক্রান্ত তখন এই রাজনীতির লাভ ক্ষতির অংক কষা বন্ধ করতে কবে শিখবেন এঁরা?বিভিন্ন সংবাদ সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে,এ রাজ্যে জলের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সংস্থা নাইসেড,অথচ এখনও সেখানে জলের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় নি,কিংবা সেখানকার কোন টিমকে ডাকা হয় নি এলাকায় গিয়ে জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে,প্রশ্ন ওঠা তো স্বাভাবিক কেন এরকম একটা নামী নির্ভরযোগ্য সংস্থাকে এড়িয়ে যাচ্ছে কলকাতা পুরসভা?অধিকাংশ ডাক্তারবাবুরাই যখন এটা বলছেন যে এরকম রোগ মূলত জল থেকেই ছড়ায় তখন কেন পুরসভা রাজ্যের সবচেয়ে নামী ও পেশাদার সংস্থার সংস্রব এড়িয়ে যেতে চাইছে?পুরসভার জলে কোন দোষ ছিল না এটা প্রমাণ করতে মেয়র মহাশয় এতটাই মরিয়া যে তিনি বলে দিলেন যে একই পরিবারের পাঁচজন জল খেয়েছে ,তাহলে কেন পরিবারের একজনের ডাইরিয়া হোল,জল থেকে ছড়ালে তো পাঁচজনেরই হওয়ার কথা।সাধারণভাবে এটা একটা যুক্তি বটে,এই যুক্তি দিয়েই সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো যায়,বোকা বানানো হয়ও।তবে তা বিজ্ঞানের যুক্তি নয়,বিজ্ঞানবিরেধী অপবিজ্ঞানের যুক্তি,আসলে মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা থাকে,জীববিজ্ঞানের ভাষায় সেই ক্ষমতাকে বলে অনাক্রম্যতা।এই ক্ষমতা কারোর বেশী হয় কারের কম,যার বেশী সে রোগ প্রতিরোধ করতে পারে,এক্ষেত্রে হয়তো পাঁচজনের পরিবারে একই জল খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কম থাকায়,কেউ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী থাকায় অসুস্থ হয় নি,কিন্তু কোনভাবেই এটা মেয়রের কথা অনুযায়ী জলের বিশুদ্ধতার প্রমাণ হতে পারেনা।তা ছাড়া পুরসভা কেন জানাচ্ছে না কোথা থেকে তারা জলের নমুনা পরীক্ষা করিযেছেন,তার নির্ভরযোগ্যতা কতটা?যে ভাবে মেয়র সবাই জল খেয়ে অসুস্থ হয় নি বলে যুক্তি সাজাচ্ছেন তাতে যে কেউই মনে করতে পারবেন সত্যজিত রায়ের  গণশত্রু ছবির সেই চরিত্রটিকে,মন্দিরের চরণামৃত থেকে রোগ ছড়াচ্ছে,এক বিজ্ঞানমনস্ক চিকিত্সকের যুক্তিকে খন্ডন করতে মন্দিরের ব্যবসা চালাতে উদগ্রীব সেই চরিত্রও একটি পুরসভার চেয়ারম্যানে ছিলেন। আমাদের মেয়রের মতোই বলেছিলেন,যদি মন্দিরের চরণামৃত থেকেই রোগ ছড়ায় তাহলে কেন হাজার হাজার লোক অসুস্থ হয় নি? প্রতিদিন হাজার হাজার লোক তো মন্দিরের চরণামৃত খাচ্ছেন। চণ্ডীপুরের সেই চেয়ারম্যান যদি গণশত্রু হন তাহলে বাস্তবে যিনি ওই একই রকম কথা বলছেন তাঁকে কী বলা উচিত?