মদের বিল বকেয়া থাকলে মিলবে না প্রেস ক্লাবের উপহারের ‘টুপিস স্যুট’

অনেকেই বলেন,কলকাতা প্রেসক্লাব এক আজব প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের স্বাধানভাবে কাজ করার পথ অবরুদ্ধ হতে থাকলে উদ্বিগ্ন হয় না,বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম দিনের পর দিন সাংবাদিকদের মাস মাইনে না দিলে প্রতিবাদ করার প্রয়োজন বোধ করে না, সাংবাদিকরা সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের অন্যায় জুলুমবাজির শিকার হলে তাঁদের পাশে দাঁড়াবার কথা ভাবে না।এমনকী সরকারের তাবেদার গোষ্ঠীর গা জোয়ারিপনায় অসংখ্য সাংবাদিকের প্রেস এ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল হলেও রা কারে না। তবে এই প্রেসক্লাবই আবার প্রায় প্রতি বছর নিয়ম করে কোন না কোন ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে ধরে সাংবাদিকদের উপহার দেওয়ার ব্যবস্থা করে।সেই উপহার হিসেবে কখনো থাকে জহর কোর্ট,কখনো ব্লেজার,এবার একেবারে স্যুট দেওয়ার ঘোষণা করেছে কলকাতা প্রেসক্লাব।এই মর্মে নোটিশ টাঙানো হয়েছে প্রসক্লাবের দেওয়ালে।তবে বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণও আছে সেই নোটিশে। বলা হয়েছে মদের বিল(বার ডিউ) বকেয়া থাকলে ও অনেক চাঁদা বাকি যাদের তারা পাবেন না এই উপহার। শোনা যাচ্ছে অনেকেই নাকি টাকা জোগার করে বিল মিটিয়ে স্যুট পাবার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন তাহলে এটা কী বারের বকেয়া আদায়ের কৌশল প্রেসক্লাবের বর্তমান কর্তৃপক্ষের? কোন উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে এরকম শর্ত কি শোভন! সাংবাদিকদের জন্য এটা অপমানকর নয়? আর একটা বিষয় উল্লেখ করার মতো যারা প্রেস ক্লাবের এ্যাসোসিয়েট মেম্বার তারাও পাবেন না এই উপহার,এরকম বৈযম্য কেন তা নিয়ে কেউই প্রশ্ন করছেন না পাছে তার প্রাপ্তিযোগে ব্যাঘাত ঘটে।সবমিলিয়ে আজব প্রতিষ্ঠান আজব কায়দায় উপহার দেবার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।কলকাতার মিডিয়ার অবস্থা খুবই বেহাল,অনেকেই নিয়মিত মাইনা পান না,চাকরী নেই অনেকের,চিট ফান্ড কান্ডের প্রকোপে অনেক মিডিয়াতে তালা পড়েছে,তবে দুর্দাশা তাড়িত সাংবাদিকদের স্যুট পড়িয়ে সাহেব সাজাবার বাইরে কিছু ভাবতে পারে না প্রেসক্লাব,ভাবতে পারে না কারণ প্রতিদিন প্রেসক্লাব নামক সুরিখানাতে মদের মোচ্ছোবেই সব ভাবনার খেই হারিয়ে যায়!

, ,