এ কোন সমাজ জঙ্গলের চেয়েও ভয়াবহ!

একই যন্ত্রণা হাহাকারের কথাগুলো লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে পড়তে হয় আমাদের,হাত আর মন কেমন অবশ হয়ে আসে,তবু বার বার ফিরে ফিরে আসে ঘটনাগুলো,একই ভয়াবহতা একই নিষ্ঠুরতা নিয়ে।আমরা অসহায়ের মতো দেখতে থাকি কোন নিন্দা,কোন ধিক্কার ধ্বনিতেই যেন ভ্রূক্ষেপ নেই বিকৃতকাম,অসভ্য ইতর অমানুষদের,তারা মহিলাদের উপর পীড়ন দমন চালাবেই বলে স্থির করে রেখেছে।গত শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডিতে এক আদিবাসী তরুণীকে যে ভাবে ধর্ষণ করে তাঁর যৌনাঙ্গে ধাতব কোন বস্তু ঢুকিয়ে যৌনাঙ্গকে ক্ষতবিক্ষত করে আদিম হিংস্রতার নজির তৈরি করলো একদল নারীলোলুপ নরখাদকের দল,তাতে এই সমাজ সভ্যতা নিয়ে গর্ব নয়,লজ্জা আর লজ্জায় আমাদের নীরব হয়ে যাওয়াই শ্রেয়।এক আদিবাসী তরুণী শুধুমাত্র মেয়ে হয়ে জন্মানোর মূল্য দিচ্ছে,তাঁর নারী অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে যৌন তৃপ্তি নিচ্ছে একদল দু-পায়ে হাঁটা জন্তু,আর আমাদের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী শোনাচ্ছেন এ রাজ্যে মহিলাদের সবচেয়ে বেশী নারাপদে থাকার গপ্প।হায় রে এর চেয়ে বড় নির্মম রসিকতা আর কী হতে পারে!আর অদ্ভূত নীরবতার চাদরে নিজেদের ঢেকে রাখতে পটু হয়ে উঠেছেন এ রাজ্যের তথাকথিত বিশিষ্টজনেরা।দিন আনা দিন খাওয়া আদিবাসী রমণীর লাঞ্চনা যন্ত্রনা হাহাকারকে নিয়ে ভাবার মতো সময় কারোর নেই,এঁরা কেউ রাজ্যের প্রশাসকদের সামনে দাঁড়িয়ে মেরুদন্ড সোজা করে বলতে পারেন না রাজধর্ম পালনে এত গাফিলতি হচ্ছে কেন,কেন বার বার এ রাজ্যে মহিলারা আক্রান্ত হচ্ছেন দুষ্কৃতীদের দ্বারা? না এ প্রশ্ন কেউ করবে না,তাহলে সরকারের পছন্দের তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে,না মিলতে পারে সরকারি আনুগত্য,তাই সকল বুদ্ধিজীবী এখন মুখ্যমন্ত্রীর বসার চেয়ার নিজের উত্তরীয় দিয়ে মুছে দিয়ে সুবোধ কবি হওয়ার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত।আর অন্য দিকে কুশমন্ডির আদিবাসী মহিলা শুধুমাত্র মহিলা হওয়ার অপরাধে হাসপাতালের বেডে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়বেন,একদল মদ্যপ যুবকের লালসার বলি হয়ে মৃত্যুর গহ্বরে তলিয়ে যাবে কামদুনি,লাভপুর,বিরাটির মেয়েরা,নদীয়ার বৃদ্ধাও।পার্কস্ট্রিটের ধর্ষিতা সুজেট জডন একা লড়তে লড়তে অসুস্থ হয়ে জীবন থেকে ছুটি নেবেন,রাণাঘাটে বৃদ্ধা সন্ন্যাসী ধর্ষণের কালি মেখে রাজ্য ছেড়ে চলে যাবেন,আমরা মুখ বুজে উন্নয়নের গপ্প শুনবো,কন্যাশ্রীর বিশ্বজয়ে আপ্লুত হবো,আর শাসকদলের নেত্রী নেতাদের কথায় হাততালি দিয়ে বলবো এ রাজ্যেই মেয়েরা সবচেয়ে বেশী নিরাপদ।বেঁকে যাওয়া মেরুদন্ডের কারণে কতদিন এই মিথ্যার জোয়াল আমাদের টেনে যেতে হবে জানা নেই,কিন্ত এটা জানা আছে যতদিন এই জোয়াল আমরা টানবো ততদিন মনুষ্যত্ব আর মানবিকতাকে স্পর্শ করতে পারবো না আমরা,সভ্যতা নয় অসভ্যতা আর বর্বরতার দিকেই এগুতে থাকবো আমরা,লাঞ্ছিত নিপীড়িত মহলাদের অভিশাপ ধেয়ে আসতে থাকবে আমাদের দিকে।এখন সময় নিজেদের মধ্যবিত্ত সুবিধাবাদী অবস্থানকে ধিক্কার দেওয়ার,যদি সেই ধিক্কারের দৌলতে কোনদিন আমাদের মধ্যবিত্ত সুবিধাবাদি মানসিকতার পাপ দূর হয়,সেদিন হয়তো কোন আদিবাসী রমণীর কান্না আমাদের তাড়িত করবে,আমাদের প্রতিবাদ মুখর হতে প্রেরণা দেবে…..কিন্তু সে তো বহু বহু দূরের পথ,ততদিনে কত কত নারীর জীবন শেষ হবে কে জানে,কে জানে কত কত নারী ধর্ষণের পর আমাদের প্রশাসলের কর্তা ব্যক্তিরা মেনে নেবেন….বড্ড বেশী নারী গেল বাণের জলে ভেসে….।.কোনদিন আমাদের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী কি বুঝতে শিখবেন যে উন্নয়ন মানে সেরকম একটা পরিবেশকেও বোঝায়,যে খানে মহিলারা বাইরে বেরিয়ে নিরাপদে নিরুপদ্রপে বাড়ি আসতে পারবেন,ধর্ষণের আতঙ্ক তাদের তাড়া করে বেড়াবে না,কুশমন্ডির কোন আদিবাসী রমনীকে শিবরাত্রির মেলায় গিয়ে এমন নির্মম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে না।

,