আগামী ১ বছরের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণ করা হবে না, অরুণ জেটলির এই মন্তব্যের মানে কী?

0
13

PNB কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই ফের শুরু হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের  বেসরকারিকরণের দাওয়াই। ইতিমধ্যেই সরকারের একটা অংশ ও  ও বেসরকারি বণিক সভাগুলির তরফে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর এই প্রেক্ষিতে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন অন্তত আগামী  ১ বছরের জন্য সরকারি ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণ বা দুর্বল ব্যাঙ্কগুলির একে অপরের সঙ্গে বিলয় করা হবে না। আগামী বছরই লোকসভার ভোট। তার মানে কি এই যে ক্ষমতায় ফিরলে ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণে উদ্যোগী হবে বিজেপি। আশঙ্কা বা সম্ভাবনা, যে যেভাবেই দেখুক না কেন, তা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর উর্জিত প্যাটেল থেকে শুরু করে  নীতি আয়োগের প্রাক্তন উপ সভাপতি অরবিন্দ পানাগরিয়া স্টেট ব্যাঙ্ক ছাড়া অন্য সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণের  ওকালতি করেছেন। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে বড় করপোরেট বা হীরে কারবারিদের একটা অংশ ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ার পরও শোধ না দেওয়ার বিষয় কেন সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না তা নিয়ে কোন উদ্বেগের কথা শোনা যায় না এদের মুখে। এদেশে বেসরকারি ব্যাঙ্কের কেলেঙ্কারির সংখ্যা কম নয়। ফেল মেরে যাওয়া বেসরকারি ব্যাঙ্কের দায় সরকারকেই নিতে হয়েছে আগে। সব থেকে বড় কথা আমেরকিয়া ২০০৭-১০ এর মধ্যে যে সাব প্রাইম সঙ্কট তৈরি হয়েছিল সেখানে বেসরকারি ব্যাঙ্ক ও বিমা কোম্পানিগুলোকে শেষ পর্যন্ত বেল আউট করতে হয়েছিল  সে দেশের সরকারের। অবশ্যই জনগণেপ করের অর্থে। ফলে সরকারি ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণের পথে হাঁটা মানা দেশের একটা বড় অংশের মানুষকে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা থেকে বাদ দিয়ে চিটফান্ড গোছের সংস্থার হাতে ঠেলে দেওয়া। অন্যদিকে সরকারি  বদান্যতা বেসরকারি ব্যাঙ্কের মালিকদের ফুলে ফেপে ওঠা। প্রয়োজন সরকারি ব্যাঙ্কের পরিচালন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনা, ব্যাঙ্কের ঋণদানের বিষয় শাসক দলের নেতা মন্ত্রীদের খবরদারি বন্ধ করা ও আরো বেশি করে গ্রাহকদের কাছে দায়বদ্ধ হওয়া।