লেনিনের মূর্তি ভাঙলে সমস্যা সিপিএমের নয়, আক্রান্ত গণতন্ত্র!

ত্রিপুরাতে সিপিএম ক্ষমতাচ্যুত হতেই সেখানে লেনিনের মূর্তি ভাঙতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে  বিজেপি কর্মী- সমর্থকদের একাংশ। বুলডোজার দিয়ে লেনিন মূর্তি ভেঙে দেওয়ার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের কোন মহান বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া যায় তা বোধকরি গেরুয়া বাহিনীর কট্টর সমর্থকও বলতে পারবেন না তবে বিজেপি নেতাদের একাংশ সেই দাবি অবশ্যই করছেন। তবে এই ঘটনাকে অনেকেই একদিকে ফ্যাসিবাদের পদসঞ্চার বলে মনে করছেন অন্যরা  উন্মাদের আস্ফালন বলে মনে করছেন। কেন না  দেশেরএ সংসদীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে আর যাই হোক লেনিনের কোন সম্পর্ক থাকা সম্ভব নয়। লেনিনের মতাদর্শ অনুযায়ী সংসদীয় রাজনীতি শুধু অসারই নয়,তাঁর মতে পার্লামেন্ট বা সংসদ আসলে একদল ‘শুয়োরের খোঁয়ার’।সিপিএম লেনিনের মূর্তি গড়েছে কিন্তু তাঁর মত ও পথকে অনুসরণ করে নি,তাই সিপিএমের প্রতি বিদ্বেষ প্রসূত লেনিনের মূর্তি ভেঙে বিজেপি কমিউনিস্ট বিদ্ধেষের শুধু পরিচয় দিতে চাইছে না , তারা দেখাতে বোঝাতে চাইছে তাদের উগ্রতাকে। কিন্তু বিজেপি বা আরএসএস বুঝতে পারছে না বোধহয় যে যারা লেনিনের পথ ও মতাদর্শ মেনে চলতে চান তাদের লেনিনের মূর্তি পুজোর দরকার হয় না,লেনিন নিজেও মূর্তি পুজোর ঘোর বিরোধীই ছিলেন। লেনিনের মূর্তি ভাঙাতে লেনিনবাদের কোন ক্ষতি হয় না,বরং এদেশের তথাকথিত গণতন্ত্রপ্রেমীদের আসল চেহারাটা সামনে চলে আসলো আবারো।  বোঝা যাচ্ছে এদের গণতান্ত্রীক বোধ বিরুদ্ধ মতাদর্শকে সম্মান করতে শেখায় না,এমনকী বিরুদ্ধ মতকে জানা ও বোঝার শিক্ষা ও রুচি থেকেও এরা যোজন যোজন দুরে থাকে। যেন তেনভাবে ভোটে জিতে সরকার গঠনই গণতন্ত্রের একমাত্র পরিচয়  নয়, যেখানে মানুষের অধিকারের মর্যদা দেওয়া হয়না, সেখানে ভোট আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। তাই শুধু লেনিনের মূর্তি ভাঙা নয়, দেশজুড়ে মানুষের অধিকারকে দমানোই আজকের শাসকদের লক্ষ্য। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে, রাস্তায় প্রতিরোধ ছাড়া কোন গতি নেই। বঙ্গের বামপন্থী বুদ্ধিজীবীরা যততাড়াতাড়ি এই সত্য উপলব্ধি করবেন ততই ভাল।