বিচারপতি লোয়ার মৃত্যুর তদন্তের নির্দেশ বিচার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই শেষ করে দেবেঃ সুপ্রিম কোর্টকে জানাল মহারাষ্ট্র সরকার

বিচারপতি লোয়ার মৃত্যু রহস্যের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া উচিত নয় বলে সুপ্রিম কোর্টে জানাল মহারাষ্ট্র সরকার। রাজ্য সরকারের মতে এর ফলে বিচার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে। আদালতে রাজ্য সরকারের তরফে আইনজীবী হরিশ সালভে জানান ”অভিযোগ করা হচ্ছে একজন ব্যক্তির ইশারায় পুরো ব্যবস্থাটা নাচছে”‘। “আর তা যদি সত্যি হয় আমাদের বিচার ব্যবস্থাকে তুলে দিতে হবে। ৪জন জেলা বিচারক ও হাইকোর্টের ২জন বিচারপতি জানিয়েছিলেন বিচারপতি লোয়ার মৃত্যুর সময় তারা তাঁর কাছে ছিলেন। তাহলে কি এটা বুঝতে হবে এরা সকলেই ষড়যন্ত্রকারী”।

ফিরে দেখাঃ

ভুয়ো সংঘর্ষে সোরাবুদ্দিন হত্যা মামলায় বিজেপি নেতা অমিত শাহের অনুকূল রায় দেওয়ার জন্য বিচারপতি বিএইচ লোয়াকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষের টোপ দিয়েছিলেন বোম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি  মহিত শাহ।২০১৭ সালের নভেম্বরে  দ্য ক্যারাভান পত্রিকায় প্রকাশিত মৃত বিচরপতির লোয়ার দিদি এই বিস্ফোরক দাবি করেন।  ক্যারাভান পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারের লোয়ার দিদির তরফে এই অভিযোগ করা হলেও এর  পর পরই লোয়ার ছেলেকে দিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করানো হয়। যেখানে তার ছেলে জানান তাদের পরিবারের তরফে এরকম কোন অভিযোগ নেই ।

২০০৫ সালে সোরাবুদ্দিনকে ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করে গুজরাট পুলিস। পুলিসের দাবি ছিল নিহত লস্কর জঙ্গি রাজ্যে  নাশকতার চালানোর জন্য এসেছিল। পরে অবশ্য প্রমাণিত হয় পুরোটাই মিথ্যে। সংঘর্ষের ঘটনায় নাম জড়ায় গুজরাটের তত্কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। ২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ তদন্তের ভার যায়  সিবিআই  এর হাতে। ২০১৩ সালে অমিত শাহকে গ্রেফতারের ভাবনা চিন্তা শুরু করে সিবিআই। কেন্দ্রে ক্ষমতার পালাবদল হতেই সব পাল্টে যায়। মামালা যে বিচারপতির আদালতে চলছিল সেই বিএইচ লোয়া ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর- ১ডিসেম্বরের রাতে নাগপুরে   হঠাত্ই সরকারি গেস্ট হাউসে অস্বাভাবিক ভাবে মারা যান। তার জায়গায় যে বিচারপতি আসেন তিনি অমিত শাহকে ক্লিনচিট দেন। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করে না সিবিআই। পুরো বিষয়টা যে যথেষ্ট গণ্ডোগোলের তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি কারো। এরপরই বিচারপতি লোয়ার ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে আইনজীবীদের একটি সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয়।

সূত্র scroll.in