৫১৫ কোটি টাকা ঋণ প্রতারণায় গ্রেফতার হওয়া শিবাজির সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল মুখ্যমন্ত্রীর

৫১৫ কোটি ব্যাঙ্ক ঋণ প্রতারণায় গ্রেফতার হলেন শিবাজি পাঁজা ও কৌস্তুভ রায়। আর এই শিবাজির সঙ্গেই একসময় সুসম্পর্ক ছিল খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। অনেকটা মোদির  মেহুলভাই বিতর্ক  বা নীরব মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ফ্রেমবন্দি ছবি এক সময় বিতর্ক তৈরি করেছিল । তবে এদেশে এটাই বোধহয় স্বাভাবিক রীতি বড় বড় জালিয়াতরা ক্ষমতাধর রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রীদের পাশাপাশিই ঘোরাঘুরি করে,তারা ক্ষমতাধর রাজনৈতিক দলকে নানা ভাবে তেল্লাই ও দিয়ে থাকে।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নীরব মোদির ছবি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা নেত্রীরা যখন সুর চড়ায় তখন বোধহয় তাঁদের মনে থাকে না,যে এ রাজ্যে তাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এমন কিছু ব্যক্তিকে কাছের মানুষ করে তুলেছিলেন যাদের বিরুদ্ধেও ব্যঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগ ছিল। শিবাজি পাঁজা সেরকমই এক ব্যক্তি। এই ব্যক্তিটিকে একসময় নিয়মিত মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যেত।এই শিবাজি পাঁজা ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রচার পত্রিকা মা মাটি মানুষের প্রধান পৃষ্টপোষক।এই ব্যক্তিটিকে মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে করে বাংলাদেশ সফরে নিয়ে যান ২০১৫ সালে সেখান থেকে ফেরার সময় বিমান বন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দারা,তখনও তার বিরুদ্ধে একটি সংস্থাকে ১৮ কোটি টাকা প্রতারণা করার অভিযোগ ছিল।আসলে এই ব্যক্তিটিও নীরব মোদির মতোই জালিয়াতি করেই টাকা কামান,এরা এক একজন ছোট নীরব মোদি,এরাও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে থেকেই জালিয়াতির সুযোগ গ্রহণ করে।দেশে যেমন বড় নীরব মোদিরা আছেন,তেমনি রাজ্যে রাজ্যে আছেন এই শিবাজি পাঁজাদের মত ছোট ছোট নীরব মোদিরা।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যদি বড় নীরব মোদিরা ছবি তুলে ব্যঙ্ক কতৃপক্ষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন,তবে শিবাজি পাঁজাদের মত ছোট নীরব মোদিরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়ে বিভিন্ন সংস্থাকে প্রভাবিত করে জালিয়াতির পথ সুগম করার ধান্দা করতে থাকেন।এটাই এ দেশের বাস্তব চিত্র।

ছবিঃthebureaucratnews.com এর সৌজন্যে