ইস্তফায় ইচ্ছুক চিকিত্সকদের উপর নজরদারি চালাতে চাইছে সরকার?

এক সপ্তাহ কাটে নি,নিজেদের সংগঠনের ফেসবুক পেজে ইস্তফার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন একাধিক সরকারি চিকিত্সক। রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন সহ ডাক্তারদের নিরাপত্তার দাবিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম সহ একাধিক ডাক্তার সংগঠন সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে গত এক সপ্তাহ আগে সাংবাদিক বৈঠকও করেছিলেন।সেখানেই একাধিক সরকারি চিকিত্সক জানিয়েছিলেন তাঁরা নিরাপত্তার অভাবজনিত কারণে ইস্তফা দিতে চাইলেও সংগঠন তাঁদের এখনই এরকম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করায় তাঁরা সময় নিচ্ছেন।ডাক্তারদের অনেকেই সেদিন মনে করেছিলেন যে তাদের অবস্থা বিবেচনা করে সরকার দ্রুত আলোচনায় বসে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সমস্যা সমাধানে সদর্থক ভূমিকা নেবেন।এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব অনিল ভর্মা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে জানিয়ে দেন তাঁরা যেন জেেলায় কোন মেডিকেল অফিসার ইস্তফা দিতে চাইলে তাঁদের ইস্তফা পত্র জমা নেন এবং জেলায় জেলায় এরকম কতজন মেডিকেল অফিসার ইস্তফা দিতে চান তার তালিকা তৈরি করতেও নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যসচিব।এর পরেই জল্পনা শুরু হয় তাহলে কী সরকার প্রতিবাদী ডাক্তারদের সঙ্গে সংঘর্ষে যাওয়ার দিকেই এগুতে চাইছে।শোনা যাচ্ছে স্বাস্থ্যসচিবের নির্দেশ মেনে কোচবিহারের সিএমওএইচ বা মুখ্য স্বাস্থ্যআধিকারিক এই মর্মে এক নির্দেশিকা জারি করে দিয়েছেন।প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে কি প্রতিবাদি ডাক্তার সংগঠনগুলির সঙ্গে সরকারের সংঘাতের পথই প্রসস্ত হতে চলেছে?বিষয়টিকে এখনই এ ভাবে ভাবতে চাইছেন না প্রতিবাদী ডাক্তার সংগঠনের সদস্যরা,তাদের মতে সরকার হয়তো বিষয়টা যাচাই করতে চাইছে বলেই এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে।ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের সভাপতি রেজাউল করিম শনিবার এ বিষয়ে সাতদিনডট ইনকে পরিষ্কার জানান তাঁরা কোনভাবেই সরকারকে প্রতিপক্ষ বলে মনে করছেন না তাঁরা চান স্বাস্থ্য পরিকাঠামের উন্নয়ন ও চিকিত্সার যথার্থ পরিবেশ,এর জন্যই তাঁরা বার বার আলোচনায় বসতে চান।ডাক্তার করিমের মতে সরকার তাদের প্রতিপক্ষ নয়,বরং সরকারকে সহায়তাই করতে চান তাঁরা,এর জন্যই মুখোমুখি বসা দরকার।সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাসও মনে করেন সরকার তাদের প্রতিপক্ষ নয়,সরকারি ডাক্তাররা সরকারের শক্তি তাই তাঁরা গঠনমূলক সমালোচনা করছেন।সরকারের ডাক্তার সংগঠন গুলির সঙ্গে কথা বলে সব মিটিয়ে নেওয়া উচিত বলে প্রতিবাদী ডাক্তার সংগঠনগুলি মনে করলেও সরকার কোন পথে হাঁটতে চাইছে তা নিয়ে কিন্ত জল্পনা শুরু হয়ে গেছে।সরকার ও প্রতিবাদী ডাক্তার সংগঠনগুলি যে পরস্পররের কর্মসূচির দিকে নজর রাখছে তা বলাই বাহুল্য।