পাওয়ার গ্রিড হবে এই শর্ত চাপালে কোন আলোচনায় বসতে রাজি নয় ভাঙড়ের আন্দোলনকারীরা

সোমবারই দক্ষিণচব্বিশ পরগণার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা শাসককে নির্দেশ দিয়েছেন সাতদিনের মধ্যে ভাঙড়ের প্রতিবাদী গ্রামবাসীদের ছ সাতজনের সঙ্গে কথা বলে,পাওয়ার গ্রিড তৈরির যাবতীয় সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে হবে।একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ কোন বহিরাগত রাজনীতি করতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হবে না।মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা পাওয়ার গ্রিড ভাঙড়ে হবে,তা না হলে এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাবে,কেউ কেউ এই এলাকাকে অন্ধকারে ডুবিয়ে রাখতে চায়,তাঁর প্রশাসন কিছুতেই তা বরদাস্ত করবে না।মুখ্যমন্ত্রীর এই নিদান নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ভাঙড়ের আন্দোলনকারীরা।আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়,এই মুখ্যমন্ত্রীই না একদিন বলেছিলেন ভাঙড়ের মানুষ না চাইলে এখানে পাওয়ার গ্রিড হবে না,তাহলে এখন কেন তিনি আলোচনার আগেই পাওয়ার গ্রিড বসানোর শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছেন?ভাঙড়ের মানুষের দাবি তাঁরা বার বার প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন কিন্তু প্রশাসন সে দাবিতে ভ্রূক্ষেপ না করে তাদের উপর নানা মিথ্যে অভিযোগে মামালা চাপিয়ে দিয়ে তাঁদেরকে দিনের পর দিন ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছে।এমনকী আরাবুল কাইজারদের মতো শাসকদলের গুন্ডাদের তাঁদের বিরুদ্দে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে,এসবই মুখ্যমন্ত্রীর জানা বলে ভাঙড়বাসীর অভিযোগ।মুখ্যমন্ত্রীর বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি প্রসঙ্গে ভাঙড়বাসীর  বক্তব্য,সহনাগরিকের যে কোন ন্যায্য লড়াইয়ের পাশে থাকা মানবিকতার প্রকাশ।আর যে রাজনীতি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইকে সাহায্য করে সে রাজনীতিই যথার্থ রাজনীতি।ভাঙড়ের প্রতিবাদীরা এটাও বলতে ছাড়ছেন না যে ভাঙড়ে যদি অলিক,শর্মিষ্ঠারা বহিরাগত হন তাহলে সিঙ্গুর নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বহিরাগতই ছিলেন।ভাঙড়ের জমি কমিটির সম্পাদক মির্জা হাসান জানিয়েছেন,তাঁরা আলোচনা চান তবে পাওয়ার গ্রিড হবে এই সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করে কোন আলোচনা হতে পারে না,আলোচনার পরেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত হতে হবে।তবে সরকরি ভাবে তাঁদের কাছে প্রস্তাব আসলে বিষয়টি নিয়ে তাঁরা ভাববেন বলে জানান মির্জা হাসান।মির্জা এদিন সাতদিনডট ইনকে বলেন,প্রশাসনিক বৈঠকে বাইরের লোক বলে মুখ্যমন্ত্রী কাদের ইঙ্গিত করছেন আমরা জানি না,তবে সরকারি প্রস্তাব পেলে কাদের নিয়ে আলোচনায় বসবো সেটা আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।কিন্তু পাওয়ার গ্রিড হবে বলে দেওয়ার পর আলোচনায় বসার কী কোন মানে থাকে,আলোচনা হতে হবে নিঃশর্ত,না হলে আলোচনার অবকাশ কোথায়,প্রশ্ন তোলেন,ভাঙড়ের জমি কমিটির সম্পাদক।তাঁর আরও প্রশ্ন বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষ ও নবনিতা দেব সেন সহ বহু সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব তাঁদের আন্দোলনকে সমর্থন করে সরকারকে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আবেদন রেখেছেন-মুখ্যমন্ত্রী কী তাঁদেরকেও বহিরাগত ভাবছেন?বেশ বোঝা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা ভাঙড়ের আন্দোলনকারীদের আবার তাতিয়ে দিয়েছে।

,