মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মানছে না প্রশাসন!!!

রামনবমী পালন নিয়ে রাজ্য জুড়ে এক উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে,চারদিকে অস্ত্র প্রদর্শনের হিড়িক লেগে গেছে।নানা জায়গা থেকে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে।কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে,একজন পুলিশ অফিসার গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন।আর এ সবের মধ্যেই সোমবার দক্ষিণচব্বিশ পরগণায় প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্য অত্যন্ত মাত্রাবহ ও চমকে দেওয়ার মতো,মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন বার বার বলা সত্ত্বেও প্রশাসন অস্ত্র প্রদর্শন আটকাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।তার মানে তো প্রশাসন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীর কথাও কানে তুলছেন না।এতো মারাত্মক কথা,মুখ্যমন্ত্রীর কথা মতো যদি প্রশাসন না চলে,তাহলে প্রশাসক হিসেবে তাঁর ভূমিকা তো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা তা হলে কে দেবে!মুখ্যমন্ত্রী পুলিশের একঅংশের বিরুদ্ধে যোগসাজসের অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন।প্রশ্ন কোন যোগসাজসের ইঙ্গিত দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী?সাম্প্রদায়িক উসকানিতে মদত দেওয়ার যোগসাজস,প্রশাসন তার নিজের সংবিধান ও কার্যকারিতা ভুলে এরকম আচরণ করলে তো তাদের কোন আলাদা পরিচয়  থাকে না,তাহলে পুলিশও তো কোন না কোন রাজনৈতিক দলের এজেন্ট হয়ে পড়ে।আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ভেবে দেখুন তিনিই কী পুলিশ প্রশাসনকে এভাবেই বার বার ব্যবহার করে আসেন নি,রাজধর্ম ভুলে তাঁদের দলীয় আনুগত্যে বিগলিত হতে প্ররোচনা দেন নি?এখন মুখ্যমন্ত্রী আতঙ্কিত যে তাঁরই প্রশাসন অন্যকোন রাজনৈতিক আনুগত্যে বিগলিত হয়ে পড়েছেন কিনা তা নিয়ে।মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা সত্যি হলে তা খুবই চিন্তার ও উদ্বেগের বিষয়।তবে ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিলেই শুধু হবে না,এই আশঙ্কা থেকে মুক্তি পেতে মুখ্যমন্ত্রীকেও যথার্থ প্রশাসক হয়ে উঠতে হবে,পুলিশকে নিয়ম মেনে,দলীয় আনুগত্যের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।তবে আজকের ক্ষমতা অভিমুখি কুটিল রাজনৈতিক পরিবেশে সেটা আদৌ সম্ভব কিনা আমরা জানি না।

,