গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ হত্যায় জামিন, কৃষ্ণসার হরিণ হত্যায় সলমনের সাজা !

0
19

কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেন অভিনেতা সলমন খান।কু়ড়ি বছর আগে সলমন খানের বিরুদ্ধে বিরল প্রজাতির হরিণ শিকারের  অভিযোগে যে মামালা দায়ের করা হয়েছিল বৃহস্পতিবার জোধপুর দায়রা আদালত তার রায় ঘোষণা করে।এই রায়ে আদালত জনপ্রিয় অভিনেতা সলমন খানকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদন্ডের নির্দেশ জারি করেছে। যদিও সলমনের আইনজীবীরা তাঁর জামিনের জন্য সেশন কোর্টে আবেদন করেছেন। সলমনের আইনজীবীরা মনে করছেন কয়েকদিনের মধ্যেই সলমনের জামিন মঞ্জুর হয়ে যাবে।তবে আপাতাত সলমনকে জেলেই যেতে হচ্ছে। কোন সন্দেহ নেই সলমন খান খুবই জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্ব। তাঁকে কেন্দ্র করে বলিউডে কোটি কোটি টাকার সিনেমা ব্যবসা চলে।এরকম এক ব্যক্তিকে আদালত সাজার ঘোষণা শোনালে তো মানতেই হয় সবসময় আইনকে অর্থের জোরে কব্জা করা যায় না।  তবে এক্ষেত্রে যে ভাবে রাজস্থানের দায়রা আদালত কুড়ি বছর আগেকার এক মামালার রায় আচমকা ঘোষণা করল ও পাঁচ বছরের জন্য সলমন খানের মতো এক প্রভাবশালী অভিনেতাকে কারাদন্ডের আদেশ দিল তা নিয়ে কেউ কেউ কিন্তু প্রশ্ন তুলতে শুরু করে দিয়েছে। এই প্রশ্ন যাঁরা তুলছেন তাঁদের কিছু যুক্তি আছে,যুক্তিগুলো এরকম যে,এই সলমনের বিরুদ্ধেই ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর এক ব্যক্তিকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। সেই মামলাতেও ২০১৫ সালের ৬ মে  নিম্ন আদালতের বিচারক সলমনকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের সাজা শুনিয়েছিলেন । কিন্তু সেই দিনই বোম্বে হাইকোর্টে জামিন পান সলমন। নগর দায়েরা আদালতের সাজা ঘোষণার পর, হাইকোর্ট কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সলমনের জামিন মঞ্জুর করে।কয়েক বছর আগেকার এই ঘটনার পর অভিযোগ উঠেছিল জেলা আদালতের রায়ের কপি না পড়েই অতি দ্রুত অভিনেতার জামিন মঞ্জুর করা হয়েছিল। পরে বোম্বে হাইকোর্ট সলমনকে বেকসুর খালাসও দেয়। এর বিরোধিতা করে  সু্প্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। মানুষ হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেও  সঙ্গে সঙ্গে জামিন মেলে( পরে বেকসুর খালাস!)  সেখানে কেন হরিণ হত্যার দায়ে দোষী হলে তা মিলল না ?আর এই প্রশ্নের সূত্র ধরেই কিছু বিষয় সামনে আসছে,জানা যাচ্ছে রাজস্থানের বৈষ্ময় সমাজের মানুষ জনেরা কৃষ্ণসার হরিণকে দেবতা বলে জ্ঞান করেন। সেই হরিণ হত্যাকারীকে তাঁরা পাপী মনে করেন সেই পাপীর শাস্তি তাদের একান্ত কাম্য। সলমনের শাস্তি ঘোষণার পর রাজস্থানের বৈষ্ণয়ী সম্প্রদায়ের মানুষজনেরা এই অভিনেতার আর বেশী শাস্তি হওয়া উচিত ছিল বলে প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছেন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে।এই সম্প্রদায়ের মানুষেরা রাজস্থানের কিছু অংশে ভোটে জয়-পরাজয়ের নির্ধারক।কারোর কারোর তাই আশঙ্কা গোটা বিষয়টা সেই ভোটের অংক মাথায় রেখেই হল না তো?কারণ আর কয়েক মাসের মধ্যেই তো রাজস্থানে বিধান সভার ভোট হতে যাচ্ছে।বিষয়টির সত্যতা  নিয়ে নিশ্চিত করে এখনই কিছু বলা মুশকিল,তবে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় যে এ দেশে মানুষ হত্যার চেয়ে পশু হত্যা বেশী অপরাধ বলে গন্য হয়।