ভাঙড়ে পঞ্চায়েত ভোটে লড়বে পাওয়ার গ্রিড বিরোধী সংগঠন

0
12

এবারের পঞ্চায়েত ভোটে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিল ভাঙড়ের পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা জমি জীবিকা, বাস্তুতন্ত্রও পরিবেশ রক্ষা কমিটি। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে দেওয়াল লিখনও। এরাজ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসে জমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কোন কমিটি ভোটের ময়দানে নামেনি।

সিঙ্গুরে জমি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল কৃষিজমি রক্ষা কমিটি,নন্দীগ্রামে লড়াইয়ের প্রথম সারিতে ছিল ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি,লালগড়ে পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনগণের কমিটি প্রশাসনের সঙ্গে নেমেছিল মুখোমুখি সংঘাতে।প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্থানীয় মানুষের দাবি দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে গড়ে উঠেছিল এই সব গণসংগঠনগুলি।বাম আমলে এই সব গণসংগঠনগুলিই হয়ে উঠেছিল রাজ্যজুড়ে উত্তাল আন্দোলন ছড়িয়ে দেবার আঁতুর ঘর।এই সব গণসংগঠনগুলির আন্দোলনের ঢেউয়ে ভেসেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়ে উঠতে পেরেছিলেন পরিবর্তনের প্রধান মুখ।যেহেতু গণসংগঠনগুলি সরাসরি ভোটে লড়ার কথা ভাবে নি,রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রাপ্তি বিষয়ে তারা তাই উদাসীন থেকে সে বিষয়ে স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের উপরেই ভরসা করেছে।সে ভরসা যে খুব একটা ফলদায়ক হয় নি পরিবর্তনের সরকারের ছ সাত বছরের মধ্যেই তা পরিষ্কার।গণসংগঠনের কী সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত,এ নিয়ে বিতর্কের মিমাংসা হয়নি। নির্বাচনের মতো সর্বৈব একটা রাজনৈতিক বিষয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়া জড়িয়ে পড়া যায় কীনা তা নিয়েও থাকছে বিস্তর ধোঁয়াশা। এতে গণসংগঠনের কাজ ভাল হবে না খরাপ সে প্রশ্নের মিমাংসাও হয় নি,তবে এরই মধ্যে এই নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল ভাঙড়ের জমি জীবিকা পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষা কমিটি।সোমবার কমিটির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হল ভাঙড়ে পঞ্চায়েত ভোটে তাঁরা প্রার্থী দেবেন। পলেরো ২ নম্বর পঞ্চায়েতের সব কটি আসনে কমিটি প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।কমিটির পক্ষ থেকে প্রদীপ সিং ঠাকুর জানান,আচমকা কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি,মাস ছয়েক আগে কমিটির সম্মেলনে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু কোন গণ সংগঠন এভাবে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারে,প্রদীপ বাবু জানান,তাঁরা যেহেতু স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয় তাই তাদের প্রার্থীরা কমিটির সমর্থিত নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁর মতে যেহেতু তারা এলাকায় যে দাবিতে লড়ছেন তা শেয বিচারে একটি রাজনৈতিক লড়াই তাই রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান তাঁরা ফাঁকা ছেড়ে দিতে রাজি নয়।জমি আন্দোলনের নেতা মির্জা হাসান বলেন,,মুখ্যমন্ত্রী বার বার বলছেন বাইরের লোকেরা আন্দোলন করছে,তারাই পাওয়ার গ্রিড হতে বাধাঁ দিচ্ছে,এলাকার মানুষ পাওয়ার গ্রিড চায়,পঞ্চায়েতে জিতে প্রমাণ করবো এলাকার মানুষ সত্যি কী চায়।তবে একটা বিপদ এখানে থাকছে এ রাজ্যে ভোট নিয়ন্ত্রণ করে শাসকদল,তাদের প্রশাসন,তাদের গুন্ডা বাহিনি,তাদেরকে প্রতিহত করতে পারবেন তো ভাঙড়ের আন্দোলনকারী গণসংগঠন?ভাঙড়ের আন্দোলনকারী গণসংগঠন এই চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন বলেই জানাচ্ছেন।এ রাজ্যে গণসংগঠনের এই নতুন অভিযান নিয়ে ভাঙড় আন্দোলনের সমর্থকদের একাংশের মধ্যে একদিকে যেমন আগ্রহ তৈরি হচ্ছে অন্যদিকে অপর অংশটির মধ্যে কিছুটা হলেও বিরুপ প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। তাদের মতে এতে গণআন্দোলনকে ভোটের চোরাগলিতে ফেলা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে কারা ঠিক তা সময়ই বলবে।