আরামবাগ বলছে,লজ্জায় মুখ ঢাকতে!!

গোটা রাজ্য জুড়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে অশান্তির আগুন জ্বলছে,তাতে বুঝতে অসুবিধা হয় না ক্ষমতার কুর্সি দখলের তাগিদ সমস্ত শিষ্টাচার রীতি-নীতিকে শিকেয় তুলে দিতে বিন্দু মাত্র সময় নেয় না। কিন্তু তা যে নিমেষেই কাউকে চিরাচরিত বোধকে অবরুদ্ধ করে একেবারে প্রকাশ্য রাস্তায় নারী নিগ্রকারী হয়ে উঠতে প্ররোচিত করতে পারে তাও দেখলাম আমরা। শনিবার আরামবাগের গোঘাটে এসডিও অফিসে মনোনয়োন দিয়ে ফিরছিলেন প্রাক্তন এক বাম বিধায়ক বিশ্বনাথ কারক ও আর কয়েকজন মহিলা প্রার্থী।ফেরার পথে এসডিও অফিসের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে তাঁদের উপর চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী।প্রাক্তন বাম বিধায়কের মুখে কালী লেপে দেওয়ার পাশাপাশি সেই দূষ্কৃতী দল প্রকাশ্য রাস্তায় মহিলাদের চুলের মুঠি ধরে,টানতে টানতে নিয়ে যেতে থাকেন,একই সঙ্গে নির্বিচারে চড় কিল লাথি মারতে থাকেন মহিলাদের।না, এ কোন অভিযোগ নয়,একেবারে বাস্তব।একাধিক খবরের চ্যানেলে বার বার এ ছবি দেখা গেছে,দেখা গেছে স্যোসাল নেটওয়ার্ক সাইটেও।প্রশাসন বিষয়টিকে আলাদা কোন গুরুত্ব দেয় নি,দেওয়ার কথাও নয়,কারণ বুঝতে অসুবিধা হয় না দূষ্কৃতীরা শাসক দলের আশ্রিত।আক্রান্ত মহিলাদের রাজনৈতিক মতের সমর্থক কেউ না হতেই পারেন,ঐ মহিলারা যে রাজনৈতিক দলের সমর্থক সেই দল ও তার সহযোগিরা এরাজ্যে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় নানা কুকর্ম করেছে তা নিয়েও যে কেউ মত দিতেই পারেন,কিন্তু তা বলে প্রকাশ্য রাস্তায় যে ভাবে মহিলাদের নিগ্রহ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করতে পারলে নিজেদের মানুয পরিচয় দেওয়া যাবে না।আরামবাগের রাস্তায় যারা মহিলাদের নিগ্র করেছে,সেগুলোকে জন্তু বললে জন্তুদের অপমান করা হয়,ওরা মাতৃ গর্ভের লজ্জা,ওরা সভ্যতা সংস্কৃতি মানবিকতার লজ্জা।ওরা তাদের প্রতিনিধি যারা রাণাঘাটে সত্তর বছর বয়সী এক সন্ন্যাসিনিকে ধর্ষণ করেছিল,যারা পার্ক স্ট্রিট,কামদুনি,বিরাটি,লাভপুর,বীরভূমে একের পর নারী ধর্ষণ ও খুন করে ওরা তাদেরই প্রতিনিধি।ওরাই সেই মদ্যপ যবক দলের প্রতিবিম্ব যারা এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণ করে তাঁর যৌনাঙ্গে ভাঙা মদের বোতল ঢুকিয়ে হত্যা করতে লজ্জা পায় না।যে সমাজে এই সব নর্দমার কীটদের অবাধ বিচরণ,সে সমাজে কণ্যাশ্রী রূপশ্রী আর নারী উন্নয়নের করমারি বিজ্ঞাপন আসলে নির্লজ্জ ভাঁওতা ছাড়া কিছু নয়।আরামবাগের ঘটনা নিরুচ্চারে বলছে,উন্নয়নের বিজ্ঞাপনে নয়,গোটা রাজ্যের সময় এসেছে লজ্জায় মুখ ঢাকার।

,