আক্রান্ত সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা! অসহায় আত্মসমপর্ণ নয়, রুখে দাঁড়াবার সময়ও বটে!

পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে যখন সন্ত্রাস আর হিংসার আগুন জ্বলছে। শাসক দলের মস্তানিতে যখন সাংবাদিকরাও আক্রান্ত হচ্ছেন,ভেঙে দেওযা হচ্ছে চিত্র-সাংবাদিকদের ক্যামেরা,কাউকে পিস্তলের নল কপালে ঠেকিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যাবার নির্দেশ জারি করছে স্থানীয় দুষ্কৃতীরা। যখন আলিপুরে এক চিত্র সাংবাদিককে প্রকাশ্য রাস্তায় নগ্ন করে হেনস্থা কারার অভিযোগে কিছু সাংবাদিক কলতাকার রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিল করেন,তখন নবান্নে দাঁড়িয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী বলেন ওসব কিছু হয় নি।। মুখ্যমন্ত্রীর এরকম সত্য ভাষণ রাজ্যবাসী শুনতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। এ রাজ্যের একটা  অংশের সাংবাদিককে তিনি ‘সঙ-বাদিক’ করে তুলতে পেরেছেন। নানা টোপ আর সুযোগ সুবিধা দিয়ে। বিভিন্ন মিডিয়ার মাথায় বসিয়ে দিয়েছেন,নিজের পছন্দের কিছু মানুষজনকে।সাংবাদিকতা নয়,মুখ্যমন্ত্রী অনুগত সেই মানুষেরজনদের প্রত্যক্ষ মদতে সেইসব মিড়িয়া এখন মূলত শাসকদলের কোলে ঝোল টেনে খবর করাই  কাজ। সাধারণ সাংবাদিকদের কোন উপায় নেই,তাদের মাথায় বসে থাকা দাদাদের নির্দেশ মেনেই কাজ করতে হয়। আর চিত্র সাংবাদিকদের তো বটেই। ছবি তোলার ঝুঁকি ছাড়া অধিকাংশ চিত্র সাংবাদিকের প্রাপ্তির ঝুলিটা প্রায় শূন্য। কোন ন্যায্য প্রশ্ন করলে মুখ্যমন্ত্রী বা যে কোন মন্ত্রী ক্ষুদ্ধ হয়ে মিডিয়া হাউসের দাদাদের ফোন করে দিলে চাকরী চলে যেতে পারে,তাই কোন অপ্রিয় প্রশ্ন করতে সাহস করেন অধিকাংশ সাংবাদিকই।আমরা সবাই দেখেছি ২০১৫ সালে বিধাননগর পুরসভা নির্বাচনের সময় একের পর সাংবাদিককে প্রকাশ্যে মেরে রক্তাক্ত করেছে শাসকদলের গুন্ডারা,অনেক সংবাদ কর্মীকেই সেদিনের পর দিনের পর দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল।কোথাও কোন প্রতিবাদ হয় নি। সরকার দুঃখ প্রকাশ করে কোন বিবৃতি দেয় নি। সংবাদম মহল থেকেও সেরকম কিছু দাবি করা হয় নি।নবান্নে এ্যাক্রেডিটেশন কার্ড থাকা সাংবাদিকদেরও যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সরকার কোথাও কোন প্রতিবাদ হয় নি। কেউ কিছু বলেন নি।মুখ্যমন্ত্রী তাঁর একান্ত অনুগত কিছু লোক নিয়ে তৈরি করেছেন সরকারি এ্যাক্রিডিটেশন কমিটি,এই কমিটি নির্বিচারে যাবতীয় রীতি নীতি ভেঙে,অসংখ্য এ্যক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করেছে,রিনিউ করতে অস্বীকার করেছে।কেউ কোন ভাবে তার প্রতিবাদ করেননি। সিপিএমের রাজনৈতিক কর্মসূচি নবান্ন অভিযান কভার করতে গিয়ে সাংবাদিকরা বেদম মার খেল পুলিশের কাছে,রক্তাক্ত হোল।পুলিশ ঘটনার সাফাই দিয়ে বলল সাংবাদিকদের চিনতে না পেরে তাদের উপর চড়াও হয়েছিল পুলিশ।আর তারপর থেকে সাংবাদিকদের চিহ্নিত করতে যে কোন রাজনৈতিক বিক্ষোভ সমাবেশে তাঁদেরকে পুলিশ জার্সি দেবে বলে স্থির করলো।পুলিশের দেওয়া সেই জার্সি গায় দিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ কভার করতেও লজ্জা পায় নি এক শ্রেণীর সাংবাদিক। রাজ্যজুড়ে সাংবাদিকদের এই হেনস্তা চালিয়ে যেতে যে প্রশাসন একটুকুও দ্বিধা বোধ করে না। যে প্রশাসনের প্রধান সাংবাদিককে নগ্ন করে হেনস্তার ঘটনাকে ফুতকারে উড়িয়ে দিয়ে ওরকম কিছু হয় নি বলে জানিয়ে দিতে সামান্যতম বিবেক দংশন অনুভব করেন না,সেই তিনি যখন সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের হত্যার প্রতিবাদে কলকাতা প্রেস ক্লাবের প্রতিবাদ মিছিলের সামনের সারিতে এসে দাঁড়ান,তখন তাঁর উদ্দেশ্যে-না মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী এ মিছিলে থাকার নৈতিক অধিকার আপনি হারিয়েছেন,এ কথা বলার মতো কোন মেরুদন্ড ওয়ালা সাংবাদিক খুঁজে পাওয়া যায় না। আর যতদিন না সাংবাদিকদের মেরুদণ্ডটা আছে সেটা তারা অনুভব করবেন ততদিন বারবার তাদের আক্রান্ত হতে হবে এই লুম্পেন রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয় লালিত পালিত বাহিনীর হাতে।

, ,