পরিবর্তনপন্থীদের একাংশের বোধোদয়,মনে পড়ে সুনন্দ সান্যালের সতর্কবার্তা!!

এ রাজ্যের তথাকথিত বিশিষ্টজনদের অনেকেরই হয়েতো এখন আর সনন্দ সান্যালকে মনে নেই। ২০১১ সালের আগে যে মানুষটি হয়ে উঠেছিলেন পরিবর্তনপন্থী বিশিষ্টজনদের প্রধান মুখ সেই সুনন্দ সান্যাল এখন অসুস্থ। বার্ধক্যজনিত কারণে ঘরবন্দি,বাকশক্তি ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে,শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঝে মধ্যেই যেতে হয় হাসপাতালে। সময়ের উত্তাপ সেভাবে আর তাঁর গায়ে লাগে না।তবু যতবার গণতন্ত্রের পরিসর বাড়ানোর প্রসঙ্গ আসবে,যতবার আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে চর্চা শুরু করবে নাগরিক সমাজ ততবারই আমাদের মনে পড়বে সুনন্দ সান্যালকে।সুনন্দ সান্যালই বাম আমলে গণতন্ত্র রক্ষা ও ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে প্রথম সরব হয়েছিলেন।অনেক বাঁধা ও লাঞ্ছনা সহ্য করেও তাঁর লড়াই তিনি চালিয়ে গেছিলেন,তাঁরই উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল গণমুক্তি পরিষদ।রাজ্যে পরিবর্তনের পালে হাওয়া লাগতেই আজকের মুখ্যমন্ত্রী,সেদিনের বিরোধী নেত্রী মমতার ভরসার মানুষ হয়ে উঠেছিলেন সুনন্দ সান্যাল।সেসময় বিভিন্ন জনসভাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুনন্দ সান্যালকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন।তারপর রাজ্যে পালা বদল হতেই সুনন্দ সান্যাল পরিবর্তনপন্থী বিশিষ্টজনদের কাছে আবেদন রেখেছিলেন,বিশিষ্টজনেরা যেন সরকারি ক্ষমতার সঙ্গে জুড়ে না যান। তাঁরা যেন সরকারকে নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে ক্রমাগত চাপ দিয়ে যান। তিনি নিজেও কোন সরকারি পদে থাকতে অস্বীকার করেন। কিছুদিন শিক্ষা দপ্তরের কিছু দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হলেও সরকারি ক্ষমতার সঙ্গে জড়িয়া যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি তা থেকে সরে আসেন।এরপর পরিবর্তনের সরকারের নানা অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সরব হতে থাকেন বিবেকবান এই শিক্ষাবিদ।রাজ্যজুড়ে একের পর এক নারী নির্যাতন,চিটফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রতিবাদে সরব হতে দ্বিধা করেন নি,সুনন্দ সান্যাল।একসময় গণপরিষদ তৈরি করে গণতন্ত্রের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন যিনি,পরিবর্তনের সরকারের বিরুদ্ধেও সেই তিনি পথে নামেন আক্রান্ত আমরা নামক সংগঠনের হয়ে।বিশিষ্টজনদের উদ্দেশ্য করে বার বার বলেছেন রাজনৈতিক প্রাপ্তির প্রত্যাশা ত্যাগ করে মানুষের পক্ষে দাঁড়ান,অন্যায়কে চিহ্নিত করুন কোন রাজনৈতিক রঙ না দেখে। না তাঁর কথায় সারা দেন নি অনেকেই। একসময় পরিবর্তনের আওয়াজ তোলা অনেক বিশিষ্টজনেরাই বর্তমান সরকারের সঙ্গে থেকে নিজেদেরটা গুছিয়ে নিয়েছেন,কেউ কেউ বঙ্গভূষণ থেকে বঙ্গবিভূণও হয়েছেন। মহাশ্বেতা দেবীর মতো মানুষও প্রতিবাদের রাস্তা থেকে সরে গিয়ে সরকারি অনুদানের কাছে আত্মসমর্পন করেছিলেন।তবে কোন সরকারি অনুদানই কিনতে পারেনি সুনন্দ সান্যালকে,ঋজু মেরুদন্ড নিয়ে তিনি দাঁড়িয়েছেন নাগরিক অধিকারের পক্ষে।বুধবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে যখন বিভাস চক্রবর্তী,প্রতুল মুখোপাধ্যায়,বিমল চট্টপাধ্যায়ের মতো বর্তমান সরকারের পক্ষে থাকা বিশিষ্টজনেরা বাধ্য হন বলতে,যে পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে যা চলছে তা আমাদের মনে করিয়ে দিতে বাধ্য করে যে এ রাজ্যে গণতন্ত্র এখন বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েছে।যখন তাঁরা বলেন যে আধিপাত্যবাদের ক্ষমতা বেশীদিন থাকে না,তখন বড় বেশী করে সুনল্দ সান্যালের কথা মনে হয় না কী!এই সতর্ক বার্তা তো তিনিই প্রথম দিয়েছিলেন,বলেছিলেন বিশিষ্টজনেরা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব করুন,কোন সরকারের নয়।সরকারের সঙ্গে একবার জুড়ে গেলে,সরকারের যাবতীয় পাপের দায় বিশিষ্টজনদেরও নিতে হবে।বিভাস চক্রবর্তীরা মানবেন না, তবু সাধারণ মানুষ মনে করেন গত কয়েক বছর ধরে সরকারের যাবতীয় অন্যায় কুকাজ দেখে চুপ করে থাকতে থাকতে সেই অন্যায়কে মদত দিয়েছেন এঁরাও,এ পাপের দায় তাঁদেরও নিতে হবে।সুনন্দ সান্যাল সময়ের উত্তাপ থেকে যতোদূরেই থাকুন তাঁর নৈতিকতা বোধ,তাঁর নাগরিক অধিকার রক্ষার তাড়না আজও তাঁকে মনে করায়,আজও তাঁকে চর্চায় রাখে।বিভাস চক্রবর্তী,প্রতুল মুখোপাধ্যায়রা সুর বদলে সে কথা মেনে নেবেন তো!!!!!!!!

, ,