পঞ্চায়েত ভোট না প্রহসন!২০ হাজার আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী তৃণমূল

পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে  রাজ্য জুড়ে যে সন্ত্রাস লক্ষ্য করা গেল তা পঞ্চায়েত ভোটকে প্রহসনে পরিণত করেছে। মনোনয়ন পেশ করতে না পেরে আদালতকে আঁকড়ে ধরেছে বিরোধীরা। ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েতের ৫৮৬৯২টি আসনের মধ্যে  ২০ হাজারে বেশি আসনে শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে। মনোনয়োন জমা শেষ হওয়ার পরও সেই চেনা ছবি,মার দাঙ্গা আর রক্তারক্তির  চিত্রের কোন পরিবর্তন হয়নি।। গত কয়েকদিনে মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজনের। জেলায় জেলায় পিস্তল,তলোয়ার,ছুঁড়ি,বোমের অবাধ প্রদর্শনীর পাশাপাশি চলছে প্রার্থীদের বাড়িতে হামলা। মনোনয়ন পর্বে ইচ্ছে মতো যাকে ইচ্ছে মাটিতে ফেলে পেটানো,কারোর কোমড়ে ছুঁড়ি গুজে দেওয়া,কাউকে পিস্তল নিয়ে তাড়া করছে,সাংবাদিকদের কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে তাঁদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুকুম জারি করা হয়েছিল। এখন শুরু হয়েছে প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের হুমকি। আর নীরব দর্শক হয়ে বসে রয়েছে রাজ্যের পুলিশ কর্তারা। পুলিশ কর্মীরা।রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজ্যপালকে তাঁর অসহায়তার কথা জানাচ্ছেন।আহা!অবাধ অহিংস গণতন্ত্রের অসাধারণ চিত্র,এমন গণতন্ত্র কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি। এই গণতন্ত্র আর মজাদার হয়ে উঠছে জুজুধান রাজনৈতিক নেতাদের তরজায়।যেমন শাসক দলের মন্ত্রী,যিনি আবার ঐ দলের মহাসচিবও বটে,সেই পার্থ চট্ট্যোপাধ্যায়ের মতে বিরোধীরা তো সারাবছর মানুষের সঙ্গে থাকে না,তারা ভোটে দাঁড়াবার সময় হলে জুটে যান,মানুষের ক্ষোভ তো হবেই।তার মানে শাসক দলের নেতা বোঝাতে চাইলেন জায়গায় জায়গায় পিস্তল লাঠি তলোয়ার নিয়ে যারা বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়োন দিতে বাঁধা দিচ্ছেন তারা কেউ দুষ্কৃতী নয় সাধারণ মানুষ,বিরোধীদের প্রতি ক্ষোভ থেকেই তারা মার দাঙ্গা করতে নেমে পড়েছেন।তবে এই দাঙ্গা মারামারিটা আইনি হয় কী ভাবে সে ব্যাখ্যা দিতে পারেন নি মন্ত্রী মহাশয়।আর তা ছাড়া বিরোধীদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেবার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দেওয়াটা যে এ দেশের গণতান্ত্রীক নিয়ম অনুসারে রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্ব প্রশাসনিক আধিকারিক হয়েও সেই শিক্ষায় নিজেকে শিক্ষিত করে তুলতে পারেন নি শাসক দলের মন্ন্ত্রী মহোদয়।উল্টো দিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন তাঁরা পাল্টা মারবেন,বেশ কিছু জায়গায় তাঁরা নাকি পাল্টা মার দিতে শুরুও করেছেন।কিছুদিন আগে এই দিলীপ ঘোষই জানিয়েছিলেন এবারের পঞ্চায়েতের লড়াইকে তাঁরা টেনে নিয়ে যেতে চান শ্মশান ঘাট পর্যন্ত।এখন প্রশ্ন হচ্ছে এসব কী খুব অহিংস রাজনীতির কথা?এইসব নেতারাই রা বিভিন্ন সময় শান্তি অহিংসার বাণী বিতরণ করেন,মাওবাদীদের বিরুদ্ধে এঁরাই না একসুরে বলেন যে মাওবাদীরা হিংসার রাজনীতি করে,অস্ত্র হাতে সন্ত্রাসবাদের পথে সমস্যার সমাধান হয় না বলে এঁরাই না দাবি করেন,তাহলে গোটা বাংলা জুড়ে অস্ত্র হাতে কোন অহিংসা আর শান্তির বাণী ছড়াতে নেমেছে এই সব রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা?  এদেশের গণতান্ত্রীক শাসন ব্যবস্থার সংবিধান কী এসব আচরণ অনুমোদন করে?উত্তর টা অবশ্যই না,বরং এঁরা যা যা বলছেন তা সবই সংবিধান বিরোধী।তাহলে তো সংবিধান ভাঙার দায় এঁদের শাস্তি হওয়া উচিত,হবে কী?এখানেও উত্তর হল না,আর এটাই গোটা ব্যবস্থাপনার ফ্যালাসি।এখানে আইন ভাঙেন আইনের রক্ষকরাই।নিজেদের তৈরি রীতি নীতিকে নিজেরাই ভাঙেন,সশস্ত্র মস্তানির দ্বারা ক্ষমতা দখলকে এঁরা অহিংস গণতন্ত্র বলে চালায়।এটা শুধু এই জামানাতে নয় আগের জামানাতেও হয়েছে,এখন অনেক খুল্লাম খুল্লা হয়ে গেছে এই যা।

গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদ চ্যানেলে চ্যানেলে যে ভয়াবহ হিংসার ছবি দেখা যাচ্ছে রাজ্য জুড়ে তাতে গণতন্ত্রের নামে পঞ্চায়েত ভোটে যে প্রহসন হতে চলেছে তা বুঝতে কারোর অসুবিধা হবার কথা নয়,কিন্তু তবুও না বিরোধী রাজনৈতিক দল,না এ রাজ্যের তথাকথিত বিশিষ্টজনেরা গণতন্ত্রের নামে এই চূড়ান্ত ভন্ডামির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারবেন না,বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বলতে পারবে না নির্বাচন নামক এই প্রহসন থেকে তারা সরে দাঁড়াচ্ছেন,কারণ তারাও ক্ষমতা পেলে এরকম প্রহসনই চালাবেন,যেমন চালিয়েছিলো আগের তথাকথিত বাম সরকার।বিশিষ্টজনেদের গলাতেও সেই জোর নেই যে তাঁরা বলতে পারবেন,এ দেশে ক্ষমতার অভিমুখ ধরে চলা রাজনৈতিক দল গুলো গণতন্ত্রের মানে ও  অর্থ কোনটাই বোঝে নি তাই এ দেশে গণতন্ত্র নেই,বলতে পারবেন না কারণ এঁরাও এক একজন এই ঘূণ ধরা ব্যবস্থাপনার অংশ হয়ে উঠেছেন।ব্যবস্থাপনার এই ঘূণ সরিয়ে সংবিধানের নিয়ম রীতিকে বাস্তবায়িত করতে সাধারণ মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে,দৃঢ় করতে হবে নাগরিকত্বের ঐক্য।মনে রাখতে হবে পরস্পর বিচ্ছিন্ন একাকী নাগরিক গণতন্ত্রের প্রহরী হতে পরে না।নাগরিক পরস্পর বিচ্ছিন্ন বলেই গণতন্ত্রের নামে দলীয় মস্তানি এমন অবাদ ও লাগাম ছাড়া হয়ে উঠছে,সশস্ত্র গুন্ডামিকে মানতে হচ্ছে অহিংস গণতন্ত্র বলে।