PIL কুত্সামূলকঃ বিচারপতি লোয়ার মৃত্যুর তদন্তের আর্জি খারিজ করে জানাল সু্প্রিম কোর্ট

0
9

বিচারপতি লোয়ার মৃত্যুর তদন্তের কোন প্রয়োজন নেই। জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্টের ৩ সদস্যের বেঞ্চ। লোয়ার মৃত্যুর  তদন্ত চেয়ে দাখিলে করা একাধিক জনস্বাার্থ মামলাকে অভিসন্ধি মূলক ও কুত্সাকারী বলে আখ্যা দিয়েছে বেঞ্চ। সু্প্রিম কোর্ট জানিয়েছে লোয়ার মৃত্যুর সময় যে ৪জন বিচারক তার কাছে ছিলেন তারা জানিয়েছেন লোয়ার মৃত্যু স্বাভাবিক, তাই তাদের বয়ান অবিশ্বাস করার কোন কারণ নেই। লোয়ার মৃত্যুর তদন্ত যে  সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান  বিচারপতির  বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালতের ৪ বিচারপতি। তাদের অভিযোগ ছিল প্রধান বিচারপতি যে বেঞ্চে মামলা নির্দিষ্ট করছেন তা পক্ষপাতমূলক। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল দেশজুড়ে।  আর তাই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে তাই প্রধান বিচারপতির ঠিক করা বেঞ্চেই এই রায় হওয়া দুর্ভাগ্যজনক হলেও অত্যন্ত স্বাভাবিক ।

ফিরে দেখাঃ

ভুয়ো সংঘর্ষে সোরাবুদ্দিন হত্যা মামলায় বিজেপি নেতা অমিত শাহের অনুকূল রায় দেওয়ার জন্য বিচারপতি বিএইচ লোয়াকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষের টোপ দিয়েছিলেন বোম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি  মহিত শাহ।২০১৭ সালের নভেম্বরে  দ্য ক্যারাভান পত্রিকায় প্রকাশিত মৃত বিচরপতির লোয়ার দিদি এই বিস্ফোরক দাবি করেন।  ক্যারাভান পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারের লোয়ার দিদির তরফে এই অভিযোগ করা হলেও এর  পর পরই লোয়ার ছেলেকে দিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করানো হয়। যেখানে তার ছেলে জানান তাদের পরিবারের তরফে এরকম কোন অভিযোগ নেই ।

২০০৫ সালে সোরাবুদ্দিনকে ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করে গুজরাট পুলিস। পুলিসের দাবি ছিল নিহত লস্কর জঙ্গি রাজ্যে  নাশকতার চালানোর জন্য এসেছিল। পরে অবশ্য প্রমাণিত হয় পুরোটাই মিথ্যে। সংঘর্ষের ঘটনায় নাম জড়ায় গুজরাটের তত্কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। ২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ তদন্তের ভার যায়  সিবিআই  এর হাতে। এরপরই অমিত শাহকে গ্রেফতারের করে সিবিআই।  ৩ মাস জেলে থাকার পর জামিন পান অমিত শাহ। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতার পালাবদল হতেই সব পাল্টে যায়। মামালা যে বিচারপতির আদালতে চলছিল সেই বিএইচ লোয়া ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর- ১ডিসেম্বরের রাতে নাগপুরে   হঠাত্ই সরকারি গেস্ট হাউসে অস্বাভাবিক ভাবে মারা যান। তার জায়গায় যে বিচারপতি আসেন তিনি অমিত শাহকে ক্লিনচিট দেন। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করে না সিবিআই। পুরো বিষয়টা যে যথেষ্ট গণ্ডোগোলের তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি কারো। এরপরই বিচারপতি লোয়ার ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে বোম্বের আইনজীবীদের একটি সংস্থা ও এক সাংবাদিক সহ   মোট  ৫টি     PIL   সুপ্রিম কোর্টে  দাখিল হয়।