দেশের সব গ্রামের বৈদ্যুতিকরণের মোদির দাবির নীচে ৪ কোটি পরিবারে এখনও জমাট অন্ধকার!

গত শনিবার মণিপুরের একটি গ্রামে বিদ্যুত সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন দেশের সব গ্রামে বিদ্যুত পৌঁছে গেছে। সরকারে এসে মোদি ঘোষণা করেছিলেন ২০১৮   সালের সবার ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেবেন। আর তাই বিজেপি  সরকারে আসার পর ১৮৪৫২টি গ্রামে বিদ্যুত পৌঁছে দেওয়ার টার্গেট নিয়েছিল কেন্দ্র। ৪ বছর পর সরকারের দাবি ১৮৪৫২টি গ্রামে বিদ্যুতের সংযোগ পৌঁছেছে। এর মানে এই নয় যে ওই সব গ্রামের সব পরিবারের ঘরের বিদ্যুতের আলো জ্বলছে। কারণ বিনামূল্যে বিদ্যুত সংযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মোদি। তবে বিদ্যুতের মাসিক বিল দিতে হবে গৃহস্থকেই। ফলে বিদ্যুত্ সংযোগ পৌঁছনো মানেই যে ঘরে আলো জ্বলবে তার গ্যারান্টি নেই। কংগ্রেস অবশ্য মোদির এই দাবি সত্য নয় বলে জানিয়েছে। তাদের দাবি দেশের ৬ লক্ষ৪৯ হাজার ৮৬৭টি গ্রামের ৯৭ শতাংশের বিদ্যুতায়নের কাছ নাকি তাদের আমলেই হয়েছে। কংগ্রেস -বিজেপির এই চাপানউতোরের থেকে বোধহয় সত্যি বাস্তবটা অনেক দূরে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী  নতুন বিদ্যুত সংযোগ দেওয়ার গ্রামগুলির ৮ শতাংশ ঘরেও বিদ্যুত পৌঁছয়নি। সরকারের হিসাব অনুযায়ী যদি কোন গ্রামে স্কুল, হাসপাতাল সহ গৃহস্থের ঘরের মোট ১০ শতাংশে বিদ্যুত পৌঁছয় তাহলে ওই গ্রামটির বৈদ্যুতিকরণ হয়েছে বলে ধরে নেয় সরকার। রিপোর্ট বলছে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী গ্রামীণ ভারতের ১৮ শতাংশ পরিবারের অর্থাত্ ৩কোটি ৬০ লক্ষ গ্রামীণ পরিবারে এখনও বিদ্যুতের আলো জ্বলে না। সরকারি পরিসংখ্যানই যদি ১৮ শতাংশ ঘরে বিদ্যুত না থাকার কথা বলে তাহলে প্রকৃত সংখ্যাটা কত সা আন্দাজ করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তাই ২০১৯ এর নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে সরকারি প্রতিশ্রুতি পূরণের এরকম ঢক্কানিনাদ আরো শুনতে পাবো।

ছবি millennium post এর সৌজন্যে

,