‘ভাগাড়ের’ খাবারের বিতর্ক কেন চাগাড় দেয় মাঝেমাঝে !

এ রাজ্যে এখন আলোচনার কেন্দ্রে ভাগাড়ের মাংস।শোনা যাচ্ছে রাজ্যের বড় বড় সব রেস্তোরাগুলোতে নাকি ভাগাড়ের মাংস সাপ্লাই হয়ে চলেছে দিনের পর দিন।ইতিমধ্যেই এই নিয়ে পুলিশি ধরপাকড়ও শুরু হয়ে গেছে।ভাগাড় থেকে তুলে এনে মরা প্রাণীর মাংস সাধারণ মানুষকে খাদ্য হিসেবে দেওয়া নিঃসন্দেহে অপরাধমূলক কাজ বলেই চিহ্নিত হওয়া উচিত। তবে আমাদের প্রশ্ন এতবড় একটা দুষ্টচক্র দিনের পর দিন চলতে পারার পেছনে প্রশাসনের ব্যর্থতা কী দায়ী নয়? খাদ্যের গুনমান নজরে রাখার জন্য তো সরকার বা পুরসভার একটা দপ্তুর আছে,নির্দিষ্ট কর্মী ও আধিকারীকরা আছেন( আছেন তো? নাকি সেখানেও বহু শূন্যপদ পূরণ হয়না দীর্ঘদিন? ),তাহলে কেন তাঁরা এরকম ঘটনা ঘটার আগেই তা আটকে দিতে পারেন না? যেখানে মানুষের স্বাস্থ্যের প্রশ্ন জড়িত সেখানে কেন সরকার ও তার আধিকারীকরা আর সতর্ক ও সজাগ হবেন না?  কতজন মানুষের ভেজাল মাংস খেয়ে কতটা ক্ষতি এতদিনে হয়ে গেল তার হিসেব কে দেবে? ঘটনা ঘটে যাবার পর হৈ চৈ হয়,প্রশাসনিক সক্রিয়তা শুরু হয়,তাহলে তো মেনে নিতে হয় এরকম ঘটনা না ঘটতে দেওয়ার মত পরিকাঠামো তৈরিই হয় নি।কেন হয় নি,তবে কী ধরে নিতে হবে সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার খুব একটা ভাবিত নয়!!এর আগেও আমরা দেখেছি কখোন ম্যাগি নিয়ে,কখোন আটা নিয়ে,কখোন ঘি নিয়ে এরকম বিতর্ক চাগাড় দেয়,আবার কিছুদিন পর সব থেমে যায়।সাধারণ মানুষ জানতে পারে না যা নিয়ে বিতর্ক সেগুলি পরে যখন বাজারে আবার বিকোয় তখন তা কোন মাপকাঠিতে শুদ্ধ হয়ে এসেছে।কেউ কেউ বলেন এরকম বিতর্কের পেছনে নাকি বিভিন্ন ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর নিজেদের মধ্যেকার বানিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কাজ করে।তা হয়তো হতেও পারে তবে আমাদের প্রশ্ন সরকার কেন সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করবে,সরকার কেন সত্যিটা সাধরণ জনগণের সামনে আনবে না,কেন সাধারণ মানুষকে ভেজাল খাবারের আতঙ্ক থেকে মুক্তি দিতে সরকার ও তার নির্দিষ্ট দপ্তর সদর্থক ভূমিকা নেবে না?তাহলে কী ধরে নিতে হবে সরকার সাধারণ মানুষের প্রতি যতটা দায়বদ্ধ তার চেয়েও তার দায়বদ্ধতা অনেকবেশী মুনাফাবাজ ব্যবসাদারদের প্রতি।কেউ কেউ বলেন রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোটে লড়ার টাকা নাকি এইসব ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোই জোগায়।তাহলে কী সেই টাকাই এরা সাধারণ মানুষকে ভোজাল খাবার খাইয়ে তুলে নেন?তাই কী সরকার বাড়াবাড়ি না হওয়া পর্যন্ত চুপ করে থাকে?প্রশ্নগুলো কিন্তু একের পর এক পিছু ধাওয়া করেই চলে।

, ,