মেট্রোতে লাঞ্চনা ‘লভ জিহাদি’ প্রচারের অঙ্গ। উদাসীন প্রজন্ম চিনতে শিখুক নিজের দেশকে

বল তো জীবনের আর কী বা থাকে মানে-প্রহরী যদি দাঁড়ায় এসে প্রেমের মাঝখানে, শঙ্খ ঘোষের কবিতার লাইন দুটি কি পড়েছেন? মঙ্গলবার দমদম মেট্রোতে পরস্পর আলিঙ্গনাবদ্ধ হওয়ার অপরাধে এ রাজ্যের তালিবানি প্রহরীদের হাতে বেদম মার খাওয়া তরুণ তরুণী  যদি পড়ে থাকেন তাহলে জীবনের বিবর্ণতা নিশ্চয়ই অনুধাবন করছেন তাঁরা।আমরা বলবো না, শুধু জীবনের অর্থহীনতা নয়,এই ঘটনার পর এ দেশের বাস্তবতাকে অনুধাবন করতে শিখুন ঐ তরুণ তরুণী। চিনতে শিখুন নিজেদের দেশটাকে।এ দেশটা আদপে সামন্ততান্ত্রীক মানসিকতায় আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা একটা পেছিয়ে পড়া দেশ। এদেশে অন্যধর্মের পুরুষকে বিয়ে করায়  হাদিয়া নামের এক তরুণীর বিরুদ্ধে চলে  NIA এর তদন্তে। এক মুসলীম তরুণীকে বিয়ে করতে চাওয়া মেয়ের পরিবারের হাতে  দিল্লিতে খুন হতে হয় অঙ্কিত সাক্সেনাকে। এদেশে ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ায় মার খেতে হয় দলিতকে। এই সব বোধ হয় মেট্রোর ওই প্রনীয় যুগল খোঁজ রাখেন না। লাভ জেহাদের নামে মুসলীম যুবকদের হিন্দু যুবতীদের বিয়ের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে উগ্র হিন্দুবাদীরা।  প্রকাশ্য প্রেম এদের পছন্দ হয় না। অথচ উনাও বা কাটুয়ায় গণধর্ষকদের বাঁচাতে এরা রাজপথে মিছিল করে। এরা চায় না দেশের মানুষ যুক্তি ও বিজ্ঞান চেতনার শিক্ষা পাক,এরা দেশটাকে পশ্চাদ দিকে টানছে। এইসব নেতা নেত্রীদের যোগ্য অনুচর মঙ্গলবার তরুন তরুণির প্রেমের বিরুদ্ধে তালিবানি জেহাদে ফেটে পড়েছিল।  যাঁরা ভাবছেন সমাজ দেশ কোন কিছুর কথা না ভেবে শুধু পাশ্চাত্যের অনুকরণে প্রকাশ্য প্রেম আর “খাও পিও জিও’ দর্শনে শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত রাখবেন মেট্রোর ঘটনা তাদের চোখ খোলার সময় হয়েছে। তাদেরও মনে রাখতে হবে সমাজে বাড়তে থাকা উগ্র হিন্দুত্ববাদী অসহিষ্ণুতা  শিকার  তারা যেমন হলেন প্রতিদিন কোথাও না কোথাও তা হচ্ছেন মুসলীম, দলিত, গরীব মানুষেরা। আর তা নিয়ে যদি নির্লিপ্ত থাকেন তা হলে এরমক ঘটনা বারবার ঘটবে।

,