মর্গে থমকে উন্নয়ন!

১৯ বছরের গৃহবধূ সুজিতা শবর,ছদিন আগে ঘরে রান্না করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়।প্রতিবেশীরা খাটিয়ায় চড়িয়ে নিয়ে যায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে,সেখান থেকে আম্বুলেন্সে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে।বাঁচেন নি সুজিতা,দিনচারেক আগেই মারা যায় সে।তারপর মর্গেই থেকে গেছে তাঁর দেহ,কারণ তাঁর বাড়ির লোকজনদের মর্গ থেকে দেহ নিয়ে আসার মত অর্থ নেই।সুজিতার স্বামী কানাই শবর মর্গে দিনরাত বসে থেকেছেন কয়েকদিন যদি কোনক্রমে বিনা অর্থব্যয়ে স্ত্রীর দেহ মর্গ থেকে নিয়ে আসা যায়।শেষ পর্যন্ত এক স্কুল শিক্ষকের সাহায্যে মর্গ থেকে দেহ বাড়িতে নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছেন সুজিতার স্বামী কানাই শবর।বেলপাহাড়ির শিমুলপাল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কানাই শবর দিনমজুরের কাজ করেন,কোনদিন তাঁর ঘরে হাড়ি চড়ে কোন দিন চড়ে না।সোমবার এ রাজ্যের বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে এ খবরটা অনেকেই  দেখেছেন নিশ্চয়ই।রাজ্যজুড়ে উন্নয়নের প্রচার অভিযানে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে,কোটি কোটি টাকা।গ্রাম গঞ্জ জুড়ে নাকি থৈ থৈ করছে উন্নয়ন!আর তার পাশেই মর্গে পচে যেতে থাকে শবর বধূর দেহ,তাঁর স্বামী দেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার মত অর্থের সংস্থানটুকুও করে উঠতে পারে না,চারদিন ধরে মর্গের বাইরে ঠায় অপেক্ষা করে বসে থাকে,যদি কোন সহৃদয় ব্যক্তি দয়াপরবশ হয়ে কিছু টাকা সাহায্য করে তাঁর স্ত্রীর দেহ বাড়িতে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করে দেয় এই প্রত্যাশায়।আমরা কেউ নিশ্চয়ই জানতে চাইবো না,নাড়ীর স্পন্ধন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে সুজিতা শবর কতদিন অনাহারে কাটিয়েছেন?এমনকী আমরা এটাও জানতে পারবো না,অনাহার জনিত অপুষ্টির কারণেই সুজিতা শবরের শরীর এত দ্রুত অগ্নিদহনের কাছে হার মেনে নিল কি না!!সমাজের যে শ্রেণীতে সুজিতা শবররা বসত করে,আমাদের দেশপ্রেম বা মানবপ্রেম তার নাগাল পায় না,তাই এঁদের জীবন যন্ত্রণা নিয়ে কোন মোমবাতি মিছিল হবে না,সুজিতা কানাই শবররা কোন তথাকথিত জীবনমুখি গায়কের গানের বিষয় হবেন না।এঁদের জীবনের মর্মান্তিক পরিণতিতে শহুরে মধ্যবিত্তের বিবেক একটুও কেঁপে উঠবে না,এঁদের নিয়ে ফেস বুক লাইফে কোন প্রতিবাদ ধ্বণিত হতে শোনা যাবে না।তার চেয়ে আজ অনেক বেশী আলোচিত হবে মুকেশ আম্বানির মেয়ে ঈষার বিয়ে,আজই তো খবর হয়েছে আর কয়েক মাস পর ঈষার বিয়ে,কত কোটি টাকার ঝাঁড়বাতি,কত কোটির গয়না,কোন দেশের কুক,দেখবেন এ সব নিয়ে ফেসবুকের দেওয়াল ভরে উঠল বলে।আমরা এতদিনে জেনেছি এদেশের ব্যঙ্ক থেকে সাড়ে এগাড় হাজার কোটি টাকা চুড়ি করে পালিয়ে যাওয়া নীরব মোদী মুকেশ আম্বানিদের আত্মীয়,তবু মুকেশরা এদেশের সম্মানীয় শিল্পপতি,তাঁর বিরুদ্ধেও এদেশের গ্যাস চুরির অভিযোগ থাকলেও,ব্যঙ্ক তাঁদের কোটি কোটি টাকা লোন দিতে দ্বিধা করে না।আর কানাই শবরকে চারদিন সরকারি মর্গের বাইরে বসে থাকতে হয়,কয়েকটা টাকা সরকারি মর্গে না দিতে পারার অক্ষমতায় তাঁর স্ত্রীর মৃতদেহে পচন ধরতে থাকে।বাঃ বাঃ!সত্যিই সেলুকাস কী বিচিত্র এই দেশ!!!

,