কেন ইমপিচমেন্ট ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে পিছিয়ে এলো কংগ্রেস?

 ইমপিচমেন্ট ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে দাাখিলকরা  আর্জি প্রত্যাহার করে নিল কংগ্রেস।       দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে ৬৪ জন বিরোধী সাংসদের আনা ইমপিচমেন্টের আর্জি খারিজ  করার  রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নায়ডুর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ কংগ্রেসের ২ ‘অনামি’ সাংসদ। ২৪ ঘন্টার মধ্যে সেই আর্জি প্রত্যাহারের পিছনে কংগ্রেসের অভিযোগ যে ভাবে মামলার শুনানির সাংবিধধানিক  বেঞ্চ দীপক মিশ্র ঠিক করেছেন তা প্রধান বিচারপতির স্বার্থের সংঘাতের সমতূল্য। আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের অভিযোগ করেছেন বেঞ্চ নির্ধারণের পদ্ধতি বেআইনি ও ন্যায় বিতারের পরিপন্থী।

বিরোধীদের দাবি ৫টি ক্ষেত্রে দীপক মিশ্রের আচরণ তার পদের গরিমার বিরোধী। কিছুদিন আগে সুপ্রিম কোর্টের ৪ বিচারপতিও বেঞ্চ বন্টন সহ একাধিক বিষয় দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। এছাড়া উড়িশার একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ কেলেঙ্কারির মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে তার রায় নিয়েও বিতর্কে জড়ান দীপক মিশ্র।  অভিযোগ ওঠে ওই বেসরকারি কলেজকে তাদের অনুকূল রায় পাইয়ে দেওয়ার বিষয় সক্রিয় রয়েছে একটি চক্র। সব মিলিয়ে একাধিক  বিতর্কে নাম জড়িয়েছে সু্প্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের। বিজেপি অবশ্য প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের চেষ্টাকে বিরোধীদের প্রতিহিংসার ফসল বলে আখ্যা দিয়েছে। অরুণ জেটলির ইঙ্গিত লোয়া মামলায় বিরোধীদের আশানুরূপ রায় না দেওয়াই দীপক মিশ্রকে  ইমপিচ করতে চাইছে বিরোধীরা।

২০১০ সালে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তি ভূষণ অভিযোগ করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন ৮ জন প্রধান বিচারপতি দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন। তিনি এই অভিযোগ করার জন্য সু্প্রিম কোর্টকে চ্যালেঞ্জ করে ছিলেন তাকে সাহস থাকলে জেলে পাঠানো হোক। তা হয়নি। তবে কখনই সু্প্রিম কোর্টের কোন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট মোশানও আনা হয়নি। এই প্রথম দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রকে পদ থেকে অপসারণের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট মোশন আনার চেষ্টা করেছিল বিরোধীরা। তাও হল না। এতে নাকি গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতো!